মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে ইরানের কড়া সতর্কবার্তা। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে গোটা অঞ্চল ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান।
উত্তেজনার কেন্দ্রে ওয়াশিংটন ও তেহরান
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌসামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ তুলে হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে।
খামেনির হুঁশিয়ারি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ পাঠানোর কথা বললেও ইরানি জাতি এসব হুমকিতে ভয় পায় না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরান কোনো দেশকে আগে আক্রমণ করতে চায় না, তবে কেউ হামলা করলে কঠোর ও শক্ত জবাব দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অবস্থান
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌমহড়ার খবর অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে কোনো সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়ার পরিকল্পনা নেই এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ ভুল। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
আলোচনার ইঙ্গিত, তবু শর্ত কঠোর
উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষ আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য চুক্তি হলে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত সমাধান সম্ভব। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, ন্যায্য আলোচনায় তারা প্রস্তুত, তবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা খর্ব করার কোনো শর্ত মানা হবে না।
বিক্ষোভ ও মৃত্যুর হিসাব
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হয়ে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নেয়। সরকারি হিসাবে এই সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউরোপের সঙ্গে নতুন সংঘাত
বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে তেহরান থেকে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ ঘোষণা দেন, ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকেও একইভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখা হবে এবং ইউরোপীয় সামরিক প্রতিনিধিদের বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সংসদে এই বক্তব্যের সময় আইনপ্রণেতারা বিপ্লবী গার্ডের পোশাক পরে সংহতি জানান।
আঞ্চলিক অস্থিরতার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান সংঘাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তাহলে শুধু দুই দেশ নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যই দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে। তুরস্কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালালেও এখনো উত্তেজনা কমার স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















