দক্ষিণ-পশ্চিমের অশান্ত প্রদেশ বালুচিস্তান-এ টানা প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার ভয়াবহ সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত একশ পঁয়তাল্লিশ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সমন্বিত গুলি ও বোমা হামলার পর শুরু হওয়া এই সহিংসতায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী একত্রিশ জন সাধারণ মানুষ এবং সতেরো জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাদেশিক নেতৃত্ব বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন ব্যাপক রক্তপাতের নজির খুব কমই দেখা গেছে।

সমন্বিত হামলায় জনজীবনে ত্রাস
প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ গ্বাদার, মাসতুং ও নোশকি—এই চার এলাকায় প্রায় একই সময়ে হামলা চালানো হয়। হাসপাতাল, স্কুল, ব্যাংক ও বাজারের মতো জনবহুল স্থানে ঢুকে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ঢুকে তারা হঠাৎ আঘাত হানে এবং কিছু ক্ষেত্রে মানুষকে মানবঢাল হিসেবেও ব্যবহার করে।

পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি চাপ
গোয়েন্দা সূত্রে আগাম সতর্কতার ভিত্তিতে হামলার আগের দিন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট যৌথভাবে বড় পরিসরে অভিযান শুরু করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে একচল্লিশ জন এবং পরদিন বিরানব্বই জন জঙ্গি নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, অল্প সময়ে এত বড় সংখ্যক জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনা বিরল।
কোয়েটায় আতঙ্কের চিত্র
হামলার পর কোয়েটার রাস্তায় দেখা যায় পোড়া যানবাহন, গুলিবিদ্ধ ভবনের দরজা এবং সতর্কতামূলক টেপ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, অনেক এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। স্থানীয় এক বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী জানান, দুপুরের পরপরই হামলা শুরু হয় এবং তিনি মুখ ও মাথায় আঘাত পান।

দায় স্বীকার ও পাল্টা বক্তব্য
নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি হামলার দায় স্বীকার করে এটিকে সমন্বিত অভিযান বলে দাবি করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীরা কোনো শহর বা কৌশলগত স্থাপনা দখল করতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক উত্তাপ
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী হামলার পেছনে বিদেশি মদদের অভিযোগ তোলে। প্রতিবেশী দেশ সেই অভিযোগ নাকচ করে অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান-এর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত বলে উল্লেখ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতার প্রেক্ষাপট
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু দরিদ্র এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সহিংসতা চলছেই। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















