বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের বড় ধস নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশের নাম ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে সোনা, রুপা, তেল ও শিল্পধাতুর বাজারে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মূল্যপতনে সোনার দর নেমে এসেছে সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
সোনা ও রুপায় তীব্র ধাক্কা
সোমবার সোনার দাম একদিনেই প্রায় পাঁচ শতাংশ কমে যায়। রুপার পতন আরও তীব্র, দর কমেছে সাত শতাংশের বেশি। গত সপ্তাহে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এমন বড় পতনে বাজারে আতঙ্ক ছড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন নতুন ফেড চেয়ারম্যান সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু রাখতে পারেন, যা মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
তেল ও শিল্প ধাতুতে চাপ
তেলের দাম প্রায় পাঁচ শতাংশ কমে বহু মাসের উচ্চতা থেকে নেমে আসে। একই সঙ্গে লন্ডনের ধাতু বাজারে তামার দর তিন শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কিছুটা হালকা হয়েছে, যা দামের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
ডলার শক্তিশালী, বাজারে বিক্রি তীব্র
কেভিন ওয়ারশকে ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেওয়ার ঘোষণার পর ডলার শক্তিশালী হয়। ডলার শক্ত হলে সোনা ও অন্যান্য পণ্যে বিনিয়োগের খরচ বাড়ে, ফলে বিক্রি বাড়তে থাকে। এশিয়ার শেয়ারবাজারও এই ধাক্কা সামলাতে পারেনি। সপ্তাহের শুরুতেই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেয়।
মার্জিন বাড়ানোয় বিক্রি আরও দ্রুত
ধাতুর বাজারে বিক্রি আরও জোরদার হয় যখন ফিউচার্স লেনদেনে মার্জিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। মার্জিন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের বেশি মূলধন রাখতে হয়, ফলে অনেকেই অবস্থান কমাতে বাধ্য হন। শুক্রবার একদিনেই সোনার দর নয় শতাংশের বেশি পড়ে যায়, যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রুপার ক্ষেত্রেও রেকর্ড পরিমাণ দরপতন দেখা গেছে।
চীনঘেঁষা উদ্বেগে তামা ও লোহা
চীনে চন্দ্র নববর্ষের ছুটির আগে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তামা ও লোহা আকরিকের বাজারেও চাপ রয়েছে। বিশ্বে শিল্পধাতুর সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীনে মজুত বেশি এবং লেনদেন ধীর হওয়ার সম্ভাবনা দামকে দুর্বল করছে।
সংশোধন নাকি দীর্ঘমেয়াদি মন্দা
বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রশ্ন হলো এই পতন কি দীর্ঘমেয়াদি মন্দার শুরু, নাকি সাময়িক সংশোধন। অনেকের ধারণা, এটি মৌলিক পরিবর্তন নয় বরং অতিরিক্ত দামের পর স্বাভাবিক সংশোধন। তাই ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি নতুন সুযোগও হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















