ভারতের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নিতে দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় ঘোষণা এল কেন্দ্রীয় বাজেটে। রবিবার সংসদে পেশ করা নবম বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্পষ্ট করে জানান, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তি, শিল্প ও অবকাঠামোয় স্বনির্ভরতা গড়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
দেশীয় শিল্প ও প্রযুক্তিতে জোর
বাজেটে বিরল খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উৎপাদনে উৎসাহ দিতে একাধিক উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বিদেশি ঠিকাদারি উৎপাদনকারীদের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত আইন সহজ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে যন্ত্রপাতির মালিকানা থাকলেও অযথা করের বোঝা না পড়ে। একই সঙ্গে মুম্বাইয়ের সৃজনশীল প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটকে সহায়তার ঘোষণা দিয়ে দেশের পনেরো হাজার স্কুল ও পাঁচশো কলেজে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও গেমিং ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়।
পুঁজি ব্যয় ও ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ
চলতি অর্থবছরের পহেলা এপ্রিল থেকে মূলধনী ব্যয় নয় শতাংশ বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এগারো দশমিক এক ট্রিলিয়ন রুপি। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় কুড়ি শতাংশ। আর্থিক শৃঙ্খলার দিক থেকেও সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা জানায়। জিডিপির তুলনায় রাজকোষ ঘাটতি চার দশমিক চার শতাংশে নামানো হয়েছে এবং পরের বছরে তা আরও কমিয়ে চার দশমিক তিন শতাংশে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শেয়ারবাজার ও করনীতি
নতুন করে বড় করছাড় না থাকলেও প্রবাসী ভারতীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পত্তি লেনদেনে নিয়ম সহজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ফিউচার ও অপশন লেনদেনে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে শেয়ারবাজারে হতাশা দেখা দেয়। জাতীয় ও বম্বে শেয়ারবাজার সূচক প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই বাজেট ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান আরও মজবুত করবে। তাঁর ভাষায়, একশ চল্লিশ কোটি মানুষ শুধু দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি নয়, খুব শিগগিরই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির সুফল যেন তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই বাজেটে পথনকশা দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি
বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনাও তীব্র। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একে দিক পরিবর্তনে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, কর্মসংস্থান সংকট, বিনিয়োগ হ্রাস ও কৃষকের দুর্দশা উপেক্ষিত থেকে গেছে। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত এবং সমালোচনায় নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার অভাব রয়েছে।
আঞ্চলিক অসন্তোষ
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর অভিযোগ করেন, কেরালার জন্য বাজেটে প্রত্যাশিত কিছুই নেই। রাজ্যের আয়ুর্বেদ ইনস্টিটিউট নিয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সুরে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, এই বাজেট রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের অবহেলাকেই আবারও তুলে ধরেছে।
সব মিলিয়ে, দেশীয় উৎপাদন, অবকাঠামো ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরলেও এই বাজেট ঘিরে প্রশংসা ও সমালোচনা পাশাপাশি চলছেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















