সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত অমুসলিম প্রবাসীদের জন্য নিজের সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার আইনি পথ স্পষ্ট করেছে দেশটির নতুন ব্যক্তিগত আইন। উইল লিখতে ও নিবন্ধন করতে কী করতে হবে, কোন আদালতে যেতে হবে এবং কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যায়—এসব নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করছেন প্রবাসীরা।
অমুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য আইন কী বলছে
আমিরাতের অমুসলিম ব্যক্তিগত মর্যাদা আইনের আওতায় অমুসলিম নাগরিক ও প্রবাসীরা চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী উইল তৈরি ও নিবন্ধন করতে পারেন। এই আইনে বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার, উইল ও অভিভাবকত্বের বিষয়ে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। কেউ চাইলে নিজের দেশের আইন অনুসরণের সুযোগও পান, তবে সে সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়।
কোন আদালতে উইল নিবন্ধন করা যায়
দুবাইয়ে বসবাসকারী অমুসলিম প্রবাসীরা দুবাই আদালত কিংবা আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের উইল সেবা কেন্দ্রে উইল নিবন্ধন করতে পারেন। এই আইনের আওতায় দুবাই আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত। সেখানে অমুসলিমদের উইল নিবন্ধনের জন্য আলাদা রেজিস্টার রাখা হয়, যাতে মৃত্যুর পর উইল কার্যকর করা সহজ হয়।
উইলে কী কী অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব
একটি উইলে নির্বাহী ও উত্তরাধিকারীর নাম, সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ এবং সম্পদের বণ্টন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। এর মধ্যে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, শেয়ার, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এসব সম্পত্তি আমিরাতের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই থাকুক, উইলের আওতায় আনা সম্ভব।
সাক্ষী ও নিবন্ধনের শর্ত
উইল অবশ্যই লিখিত হতে হবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করতে হয়। নিবন্ধনের সময় উইলটি সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রিতে জমা রাখতে হয় এবং মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সেটি নিবন্ধিত অবস্থায় থাকতে হয়। প্রয়োজনে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের জন্য অভিভাবকও নির্ধারণ করা যায়।
অন্য আমিরাত ও দূতাবাসের সুযোগ
দুবাই ছাড়াও আবুধাবির বৈশ্বিক বাজার আদালতে অমুসলিম প্রবাসীরা উইল নিবন্ধন করতে পারেন। পাশাপাশি নিজ নিজ দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যদি এই সেবা থাকে, সেখানেও উইল নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
কেন এখনই উইল করা জরুরি
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসজীবনে হঠাৎ কোনো অনিশ্চয়তা এলে পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের সুরক্ষার জন্য আগেভাগেই উইল করা সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এতে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে জটিলতা কমে এবং আদালত প্রক্রিয়াও দ্রুত হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















