১১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
গাছে উঠে প্রাণ বাঁচানো ৮ বছরের জোয়ালের সঙ্গে মায়ের হৃদয়ছোঁয়া পুনর্মিলন ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় নিয়ন্ত্রণ’, ট্রাম্পের নজর জ্বালানির দামে পাকিস্তানে সিম কার্ড পাঠিয়ে ভারতের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঢুকত পাকিস্তানি গোয়েন্দারা, দিল্লিতে দম্পতি গ্রেপ্তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় আশাবাদ, সুদ বাড়ানোর দরজাও খোলা—ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের জ্যাকসন হোল বক্তৃতায় যে ৩ বার্তা স্কটল্যান্ডের কোন দুর্গে যাবেন, আর কোনটি এড়িয়ে চলাই ভালো—স্থানীয়ের চোখে সেরা তালিকা মেটার ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা: কিশোরদের জন্য বদলাবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, চাপ বাড়ছে টিকটক-ইউটিউবেও নিকেতু ইরালু: শান্তির এক সাহসী সেতু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ভারতীয় শিল্পের ঘুম ভাঙার সময় এখনই খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন

ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কে টানাপোড়েন, ট্রাম্প নির্ভরতা কমাতে নতুন পথে ইউরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হওয়ায় ইউরোপের শীর্ষ নেতারা এখন নতুন কৌশল খুঁজছেন। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতিতে ওয়াশিংটনের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে তারা ধীরে হলেও স্পষ্ট পদক্ষেপের কথা ভাবছেন। সাম্প্রতিক সংকট ও ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত অবস্থান ইউরোপকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে।

জরুরি বৈঠকে উদ্বেগ ও হিসাব

গত সপ্তাহে ব্রাসেলসে জরুরি নৈশভোজ বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা মুখোমুখি হন এক কঠিন বাস্তবতার। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক হুমকি, ইউরোপীয় মূল্যবোধ নিয়ে কটাক্ষ এবং গ্রিনল্যান্ড ঘিরে আগ্রহ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। খাবারের টেবিলে আলোচনার কেন্দ্র ছিল, এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

সংলাপ নাকি কড়া জবাব

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মারৎস ইউরোপজুড়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগে বাধা কমানোর ওপর জোর দেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ স্পষ্ট করেন, সম্মান আদায় করতে হলে প্রয়োজনে পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি দেখাতে হবে।

নতুন কৌশলের খসড়া

দীর্ঘ আলোচনার পর একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলপত্রের মতো ধারণা সামনে আসে। ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ উসকানিতে প্রকাশ্যে শান্ত থাকা, প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া এবং আড়ালে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। যদিও এই পরিকল্পনা এখনো অনেকটাই কথার স্তরে রয়ে গেছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বিকল্প খোঁজ

ইউরোপীয় নেতারা বুঝতে পারছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাজার না খুললে ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর নতুন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ করা এবং ভবিষ্যতের ক্রেতা বাড়ানো। প্রযুক্তি, আধা পরিবাহী, বিরল খনিজ ও অস্ত্র খাতে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় এসেছে।

প্রতিরক্ষা ও গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ইউরোপকে সামরিক নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে ইউরোপকে পুরোপুরি নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। জার্মানি আরও আগেই আত্মনির্ভর হতে চায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশকে বড় অঙ্কের ঋণ সুবিধা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে।

আর্কটিকে সক্রিয়তা, কিন্তু দ্বিধা রয়ে গেছে

রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও চলছে। যৌথ সামরিক তৎপরতা, ড্রোন নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযান নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো তা প্রাথমিক স্তরে। কিছু দেশ ইউক্রেন সংকটকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে চায়, ফলে ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।

ধৈর্যই এখন ভরসা

সব মতভেদের মাঝেও ইউরোপের পুরোনো কৌশলই আবার সামনে আসছে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাছে উঠে প্রাণ বাঁচানো ৮ বছরের জোয়ালের সঙ্গে মায়ের হৃদয়ছোঁয়া পুনর্মিলন

ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কে টানাপোড়েন, ট্রাম্প নির্ভরতা কমাতে নতুন পথে ইউরোপ

০৬:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হওয়ায় ইউরোপের শীর্ষ নেতারা এখন নতুন কৌশল খুঁজছেন। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতিতে ওয়াশিংটনের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে তারা ধীরে হলেও স্পষ্ট পদক্ষেপের কথা ভাবছেন। সাম্প্রতিক সংকট ও ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত অবস্থান ইউরোপকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে।

জরুরি বৈঠকে উদ্বেগ ও হিসাব

গত সপ্তাহে ব্রাসেলসে জরুরি নৈশভোজ বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা মুখোমুখি হন এক কঠিন বাস্তবতার। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক হুমকি, ইউরোপীয় মূল্যবোধ নিয়ে কটাক্ষ এবং গ্রিনল্যান্ড ঘিরে আগ্রহ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। খাবারের টেবিলে আলোচনার কেন্দ্র ছিল, এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

সংলাপ নাকি কড়া জবাব

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মারৎস ইউরোপজুড়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগে বাধা কমানোর ওপর জোর দেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ স্পষ্ট করেন, সম্মান আদায় করতে হলে প্রয়োজনে পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি দেখাতে হবে।

নতুন কৌশলের খসড়া

দীর্ঘ আলোচনার পর একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলপত্রের মতো ধারণা সামনে আসে। ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ উসকানিতে প্রকাশ্যে শান্ত থাকা, প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া এবং আড়ালে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। যদিও এই পরিকল্পনা এখনো অনেকটাই কথার স্তরে রয়ে গেছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বিকল্প খোঁজ

ইউরোপীয় নেতারা বুঝতে পারছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাজার না খুললে ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর নতুন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ করা এবং ভবিষ্যতের ক্রেতা বাড়ানো। প্রযুক্তি, আধা পরিবাহী, বিরল খনিজ ও অস্ত্র খাতে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় এসেছে।

প্রতিরক্ষা ও গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ইউরোপকে সামরিক নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে ইউরোপকে পুরোপুরি নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। জার্মানি আরও আগেই আত্মনির্ভর হতে চায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশকে বড় অঙ্কের ঋণ সুবিধা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে।

আর্কটিকে সক্রিয়তা, কিন্তু দ্বিধা রয়ে গেছে

রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও চলছে। যৌথ সামরিক তৎপরতা, ড্রোন নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযান নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো তা প্রাথমিক স্তরে। কিছু দেশ ইউক্রেন সংকটকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে চায়, ফলে ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।

ধৈর্যই এখন ভরসা

সব মতভেদের মাঝেও ইউরোপের পুরোনো কৌশলই আবার সামনে আসছে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায়।