দুবাই শহরটি আমাল মালিক–এর জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকের নীরব সাক্ষী। একটি জনপ্রিয় ছবির সঙ্গীত যাত্রার শুরুর মুহূর্ত থেকে শুরু করে পরে নিজের স্বাধীন সংগীতের পথে হাঁটা, সবকিছুরই ছাপ রয়েছে এই শহরে। আর এবার, বিগ বস রিয়েলিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর নিজের জীবন ও ভাবনায় যে বড় পরিবর্তন এসেছে, সেটাকেই তিনি এক শব্দে ব্যাখ্যা করছেন—সুন্দর।
দুবাইয়ে আত্মপরিচয়ের নতুন অধ্যায়
সাম্প্রতিক সময়ে আমাল মালিকের জীবনে এসেছে তীব্র মানসিক চাপ, জনসমালোচনা আর আত্মসংঘাত। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তিনি পেয়েছেন নতুন স্পষ্টতা। তাঁর কথায়, এক দশকের বেশি সময় ধরে মানুষ তাঁর গান ভালোবেসেছে, কিন্তু এখন তারা তাঁর মুখ, তাঁর ব্যক্তিত্ব আর মানুষ আমাল মালিককে ও চিনতে শিখেছে।

বিগ বসে নির্ভেজাল সততা
বিগ বসে প্রবেশের সময় কোনো প্রচার পরিকল্পনা বা কৌশল ছিল না আমালের। তিনি চেয়েছিলেন শুধুই নিজের মতো থাকতে। পর্দায় নিজেকে দেখা কখনো মজার, কখনো অস্বস্তিকর লেগেছে, তবু শীর্ষ পাঁচে পৌঁছানো ছিল তাঁর জন্য এক অপ্রত্যাশিত স্বীকৃতি। তাঁর লক্ষ্য ছিল হৃদয় জেতা, আর সেখানেই তিনি নিজেকে সফল মনে করেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা
এই রিয়েলিটি শো তাঁকে সামনে নিয়ে এসেছে একজন প্রকাশ্য মানুষ হিসেবে, যিনি পুরুষদের মানসিক অবসাদ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা করেন না। তাঁর মতে, সাফল্য দেখেই মানুষ ধরে নেয় সবকিছু সহজ, অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। একসময় তাঁর খোলামেলা মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটাই পরিবারে যোগাযোগ আরও গভীর করেছে।

গানের ভেতরেই জীবনের গল্প
আমাল মালিক বিশ্বাস করেন, তাঁর গানই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, বন্ধুত্ব আর পারিবারিক অনুভূতি—সবই এসেছে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। তিনি নিজেকে সংগীতের জগতে রোমান্সের প্রতীক হিসেবে দেখেন, ঠিক যেমন চলচ্চিত্রে শাহরুখ খান।
স্বাধীন সংগীত আর সৃজনশীল স্বাধীনতা
বর্তমানে তিনি একদিকে অসমাপ্ত চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করছেন, অন্যদিকে জোর দিচ্ছেন স্বাধীন সংগীতে। নিজের নিয়ন্ত্রণে তৈরি একাধিক গান ও ভিডিও প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। অভিনয় বা ওয়েব ধারাবাহিকের প্রস্তাব এলেও সংগীতই তাঁর মূল আশ্রয়।

বদলে যাওয়া সংগীতের দুনিয়া
আমালের মতে, এখন শ্রোতারা আর গান কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে ভাবেন না। তারা খোঁজেন অনুভূতির স্পর্শ। চলচ্চিত্র বা স্বাধীন সংগীত—দুটোরই ঝুঁকি আছে, তবে সত্যতা আর সংযোগ থাকলেই গান দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। তাঁর লক্ষ্য ক্ষণস্থায়ী সাফল্য নয়, বরং এমন উত্তরাধিকার তৈরি করা, যেখানে গান বারবার ফিরে শোনা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















