জেন জি প্রজন্মের পেশাজীবীরা ঘনঘন চাকরি বদলাচ্ছেন—এই বাস্তবতাকে লজ্জা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানালেন উদ্যোক্তা অনুপম মিত্তল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া তাঁর এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। তাঁর মতে, ক্যারিয়ারের শুরুর সময় চাকরি বদল অনেক সময় আত্মঅনুসন্ধানেরই অংশ, তবে সঠিক পথ খুঁজে পেলে স্থিরতা জরুরি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে অনুসন্ধান স্বাভাবিক
অনুপম মিত্তলের ভাষ্য, বাইশ বছরের তরুণদের প্রতি বছর চাকরি বদল নিয়ে দোষারোপ করা অর্থহীন। ক্যারিয়ারের প্রাথমিক ধাপে মানুষ নিজের আগ্রহ, ভূমিকা ও কর্মসংস্কৃতি বুঝে নিতে চায়। এই সময় ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র ও দায়িত্বে কাজ করে দেখা স্বাভাবিক। কোনো কাজ বা পরিবেশ মন মতো না হলে সেখান থেকে সরে আসাকে অপরাধ ভাবার কারণ নেই। এই সময়টাই অনুসন্ধানের।
)
তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিরতা জরুরি
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এই নমনীয়তা যেন দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত না হয়। সঠিক ক্ষেত্র চিহ্নিত হওয়ার পর বারবার চাকরি বদলের বদলে মনোযোগী হয়ে কাজ গুছিয়ে নেওয়াই জরুরি। জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য নিয়োগ দিতে গিয়ে তিনি এমন জীবনবৃত্তান্ত এড়িয়ে যান, যেখানে অন্তত চার থেকে পাঁচ বছরের একটি ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা নেই।
সময়ের সঙ্গে ফলাফল বোঝার প্রয়োজন
অনুপম মিত্তলের মতে, বারো মাসে নিজের সিদ্ধান্তের ফল পুরো বোঝা যায় না। প্রথম বছরে শেখা হয়, দ্বিতীয় বছরে কাজ বাস্তবায়ন হয়, তৃতীয় বছরে আগের সিদ্ধান্তের জটিলতা সামলে সাফল্য বড় করা শুরু হয়। শিল্পখাতকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। সেখানেই প্রকৃত জয়।
ক্যারিয়ারের সময়রেখা নিয়ে পরামর্শ
তাঁর প্রস্তাব, একুশ থেকে চব্বিশ বছর বয়স পর্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে অনুসন্ধান করা যেতে পারে। পঁচিশে পা দেওয়ার পর অন্তত চার বছর একটি প্রতিষ্ঠানে থেকে দায়িত্ব ও শিল্পখাত গভীরভাবে বোঝা দরকার। উদ্যোক্তা বা প্রধান নির্বাহী হতে চাইলে কঠিন সময়ে টিকে থাকার সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়।
অনলাইনে প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্যে সাড়া দিয়েছেন বহু ব্যবহারকারী। কেউ বলেছেন, নিজের জন্য সঠিক ভূমিকা ও পরিবেশ খুঁজতেই তিনি চাকরি ছেড়েছেন। কারও মতে, শুরুতে নড়াচড়া শেখারই অংশ, তবে ফল দেখার মতো সময় না দিলে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। আবার কেউ বলেছেন, পার্শ্বপ্রকল্পের মাধ্যমেও অনেকে দ্রুত নিজের জায়গা খুঁজে পান। তবু অধিকাংশের মতে, উপযুক্ত জায়গা পেলে প্রতিশ্রুতি আর গভীরতাই নেতৃত্ব গড়ে তোলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















