ভারতের বার্ষিক বাজেটে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের অভাব এবং ডেরিভেটিভ লেনদেন কর বৃদ্ধির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ভেঙেছে। রবিবার বিশেষ লেনদেন অধিবেশনে শেয়ারবাজারে নেমে আসে প্রায় এক শতাংশ পতন। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাজার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়েছে, নীতিগত দিকনির্দেশনায় বিনিয়োগকারীরা আরও সাহসী পদক্ষেপ চেয়েছিলেন।
বাজেট ঘোষণার পর বাজারের প্রতিক্রিয়া
মুম্বাইয়ে বাজেট উপস্থাপনের সময়ই লেনদেন কর বৃদ্ধির খবরে শেয়ারদর চাপের মুখে পড়ে। ফিউচার ও অপশনের ওপর সিকিউরিটিজ লেনদেন কর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোয় ব্যাংক, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও পুঁজিবাজার–সব খাতেই বিক্রির চাপ দেখা যায়। সূচকভিত্তিক বাজারে নিফটি সূচক দিনের শেষে প্রায় এক শতাংশ নেমে আসে।

প্রবৃদ্ধি থাকলেও বিদেশি পুঁজি বেরিয়ে যাচ্ছে
ভারতের অর্থনীতি এখনও বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দ্রুতগতির একটি। চলতি অর্থবছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় সাত দশমিক চার শতাংশ। তবু গত জানুয়ারি থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রেকর্ড পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছেন, যার মোট অঙ্ক প্রায় বাইশ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে রুপির মান নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে।
সরকারি আর্থিক শৃঙ্খলার লক্ষ্য
অর্থমন্ত্রী জানান, অস্থির বৈশ্বিক পরিবেশে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি সরকারি আর্থিক ভারসাম্য জোরদার করাই সরকারের অগ্রাধিকার। আগামী অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত কমিয়ে পঞ্চান্ন দশমিক ছয় শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। বন্ড বাজার থেকে বড় অঙ্কে ঋণ নেওয়ার ঘোষণায় সুদের হারে চাপ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে উৎপাদনে জোর
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার বড় কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আরোপিত শুল্ক সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি সরকারের। অবকাঠামো ব্যয় ও ভোক্তা কর ছাড়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ধরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সাত খাতে উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সরকার ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর, বিরল খনিজ চুম্বক, রাসায়নিক, পুঁজি সামগ্রী, বস্ত্র ও ক্রীড়া সামগ্রীর মতো সাতটি খাতে উৎপাদন বাড়াতে চায়। পুরোনো শিল্পাঞ্চল পর্যালোচনার উদ্যোগও নেওয়া হবে। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে উৎপাদন খাতের অবদান বিশ শতাংশের নিচে, যা পঁচিশ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য বহুদিনের।

সংস্কার প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
সাম্প্রতিক সময়ে ভোগ ও আয়করে ছাড়, শ্রম আইনে পরিবর্তন এবং পারমাণবিক শক্তি খাত উন্মুক্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাজার আরও গভীর সংস্কার আশা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে দেশ এগোচ্ছে এবং পরবর্তী পঁচিশ বছর উন্নত অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যয়ে সংযমী বার্তা
নতুন অর্থবছরে অবকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়িয়ে বারো দশমিক দুই ট্রিলিয়ন রুপি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়েছে ছয় শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেটে বড় চমক নেই—না বড় ইতিবাচক, না বড় নেতিবাচক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















