ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের অবস্থানকে নাটক বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বাস্তব বা যৌক্তিক কারণ নেই; বরং এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিনয়ের অংশ।
ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
হরভজন সিং বলেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারত ম্যাচ না খেলতে চায়, তাহলে তাদের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, এমন অর্ধেক সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসে বক্তব্য দেওয়াই প্রমাণ করে বিষয়টি লোক দেখানো। তার ভাষায়, সাহস থাকলে পাকিস্তানকে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে, তাহলেই বোঝা যাবে তাদের প্রকৃত অবস্থান।

সাধারণ সমর্থকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ
হরভজনের অভিযোগ, এই ধরনের ঘোষণা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান কি তাদের নিজ দেশের সেই কোটি কোটি সমর্থকের কথা ভেবেছে, যারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্তে সমর্থকদের আবেগ ও আগ্রহকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের ভূমিকা
হরভজন সিং বলেন, বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বলে পাকিস্তান আসলে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করে এবং সেই জায়গায় স্কটল্যান্ড সুযোগ পায়। ওই সময় পাকিস্তানই একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিল। তবে হরভজনের প্রশ্ন, বাংলাদেশের ইস্যুতে পাকিস্তান কেন নিজেকে জড়িয়ে নাটক করছে।

অতীতের উদাহরণ টেনে সমালোচনা
ভারতের সাবেক এই স্পিনার মনে করিয়ে দেন, অতীতেও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও পাকিস্তান এশিয়া কাপে খেলেছিল, কারণ তারা রাজস্ব হারাতে চায়নি। সেই সময় দেশপ্রেম বা নিরাপত্তার প্রশ্ন কোথায় ছিল—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সব মিলিয়ে হরভজন সিংয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, তার চোখে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থান বাস্তবতা নয়, বরং কৌশলী নাটক, যেখানে বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থানকে জোরালো দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















