ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা হতেই দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমে আঠারো শতাংশে নামায় একে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন শিবির। তবে বিরোধীদের মতে, এই সমঝোতা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মোদি–ট্রাম্প ফোনালাপ ও চুক্তির ঘোষণা
সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পরই চুক্তির ঘোষণা আসে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ভারতের ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে আঠারো শতাংশ করা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের জন্য এটি বড় সাফল্য এবং ভারতের একশো চল্লিশ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
এই ফোনালাপের দিনই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটন সফরে যান, যা এই সমঝোতাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

বিজেপির প্রশংসা, ঐতিহাসিক সাফল্যের দাবি
চুক্তির ঘোষণা হতেই বিজেপির শীর্ষ নেতারা একে ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক জয় বলে উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। তাঁর মতে, এটি ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য একটি বড় দিন।
বিজেপির সভাপতি নিতীন নাবিন প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, এই চুক্তি ভারতের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং আত্মনির্ভর ভারত ও মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও একই সুরে চুক্তিকে ‘উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পর পরিপূরক শক্তি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও শিল্পে যৌথ সাফল্যের পথ খুলে দেবে।

কংগ্রেসের কটাক্ষ, প্রশ্ন নেতৃত্বে
অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এই চুক্তিকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই ‘সব চুক্তির জনক’ হতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখন দেশের জনগণ জানতে পারছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে।
রমেশ আরও বলেন, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা, অপারেশন সিন্দুর প্রসঙ্গ এবং এই বাণিজ্য চুক্তি—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের হাতে মোদির ওপর চাপ তৈরির প্রমাণ মিলছে। জনপ্রিয় হিন্দি ছবির সংলাপ টেনে তিনি কটাক্ষ করেন, ওয়াশিংটনে বসে ‘মোগাম্বো খুশ’।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় উত্তাল পরিবেশ
একদিকে শাসকদলের প্রশংসা, অন্যদিকে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা—সব মিলিয়ে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এই চুক্তি ভবিষ্যতে ভারতের বাণিজ্য ও কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















