ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর ঘোষিত নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হচ্ছে। এই ঘোষণার পরপরই দিল্লি ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় চুক্তির শর্ত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনার কথাও বলা হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকেও একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমায় ভারতীয় উৎপাদন ও রপ্তানি খাত বড় সুযোগ পাবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
চুক্তি ঘোষণার পর ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত Sergio Gor সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সম্ভাবনা সীমাহীন। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত বোঝাপড়া এই চুক্তিকে বাস্তব রূপ দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গর আরও জানান, ভারতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি লক্ষ্য করেছেন, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে গভীর আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কই আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের শুল্ক হ্রাস সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, ১৮ শতাংশে নেমে আসা শুল্ক ভারতের জন্য বড় স্বস্তি এবং ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে।

রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, উভয় দেশের নেতৃত্বই চলমান সংঘাত নিরসনে আগ্রহী এবং সেই লক্ষ্যেই এই শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক লেনদেন নয়, বরং ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত স্তরে নিয়ে যাচ্ছে। শুল্ক কমার ফলে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা বাড়বে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাবে বিশাল বাজার ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের সুযোগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















