০৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
পাকিস্তানের অনড় অবস্থান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ অনিশ্চিত, নকআউটের ভবিষ্যৎও সরকারের হাতে রাতারাতি সোনার দামে বড় ধাক্কা, একদিনে ভরি প্রতি বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা ঢাকা–টোকিওর মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি নির্বাচনে বান্দরবান নিরাপত্তায় ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রাতারাতি সোনার দামে বড় ধাক্কা, একদিনে ভরি প্রতি বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা ফরিদপুরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন: ভারত থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছেন মার্কিন হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু করবে “বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ১৪৫ জঙ্গি নিহত” ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা ফেরার ইঙ্গিত, ইস্তাম্বুলে বৈঠকের প্রস্তুতি

বালুচিস্তানে সহিংসতা সামরিক অভিযান নয়, রাজনৈতিক বার্তা

বালুচিস্তানের বিভিন্ন জেলায় যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তা কোনো সামরিক অভিযান ছিল না, কিংবা ভূখণ্ড দখল বা রাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার প্রচেষ্টাও নয়। যা ঘটেছে, তা ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা—স্বল্প সময়ের, ছড়িয়ে থাকা এবং প্রতীকী।

কীভাবে সংঘটিত হলো এই সহিংসতা

এই হামলাগুলো ছিল মূলত আতঙ্ক সৃষ্টি ও সংকেত দেওয়ার কৌশল। একযোগে একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সক্রিয় হতে বাধ্য করা হলেও বাস্তবে বড় ধরনের যুদ্ধ হয়নি। পুরো ঘটনাপ্রবাহে দুটি জায়গা ছিল মূল কেন্দ্র—কুয়েটা এবং কালাত। কুয়েটা বেছে নেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতীকী গুরুত্বের কারণে, আর কালাত ছিল প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যবস্তু।

Comment: Balochistan: 'political violence', not a military manoeuvre

অন্যান্য এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার উদ্দেশ্য

নুশকি, দালবন্দিন, গ্বাদর, পাসনি, মাস্তুং ও বুয়েলেদা তুম্প অঞ্চলে যা ঘটেছে, সেগুলো মূলত বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা। কোথাও দূরপাল্লার গুলি, কোথাও গ্রেনেড নিক্ষেপ, কোথাও স্বল্প সময়ের সড়ক অবরোধ। এগুলো বারোটি যুদ্ধ ছিল না, বরং দুটি মূল সংঘর্ষ ও একাধিক বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতা।

সামরিক শক্তি নয়, ভয় ও প্রচারের কৌশল

হামলাকারীরা কোথাও ভূখণ্ড দখল, ধরে রাখা বা রক্ষা করার সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। এই তৎপরতার লক্ষ্য ছিল দৃশ্যমানতা, ভয় সৃষ্টি এবং প্রচার। এটি ছিল সামরিক প্রভাব নয়, বরং মানসিক চাপ তৈরির প্রয়াস। সমন্বিত সময় বেছে নেওয়া হলেও বাস্তব সময়ে কোনো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ছিল না, বরং বিচ্ছিন্ন সেলভিত্তিক কার্যক্রমই দেখা গেছে।

রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রণ

নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও কার্যকর। এক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হামলার ধার ভেঙে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয় যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়েনি এবং এটি কোনো বিপ্লবী সামরিক শক্তির উত্থান নয়।

Rising Organized Political Violence in Balochistan: A Resurgence of Baloch  Separatism? | ACLED

আসল লড়াই তথ্য ও বর্ণনার মাঠে

এই সহিংসতার প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র ছিল ভূমি নয়, বরং তথ্য ও বর্ণনা। সামাজিক মাধ্যমে অতিরঞ্জিত প্রচার, আতঙ্ক ছড়ানো এবং ঘটনার ব্যাপ্তি বাড়িয়ে দেখানোই ছিল মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক সংকেতকে যদি সামরিক উত্তেজনা হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে সেটিই উগ্রপন্থীদের কাঙ্ক্ষিত বয়ানকে শক্তিশালী করে।

রাষ্ট্রের করণীয় কী

রাষ্ট্রের উচিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একক ও নির্ভুল বিবৃতি দেওয়া—কী ঘটেছে, কোথায় ঘটেছে, কখন ঘটেছে এবং কী ঘটেনি। যাচাইহীন তথ্য স্পষ্টভাবে আলাদা করে চিহ্নিত করা এবং অতিরঞ্জন দ্রুত সংশোধন করা জরুরি। কৌশল হওয়া উচিত নেটওয়ার্ক ভাঙা, আতঙ্ক নয়।

রাজনৈতিক সহিংসতার প্রকৃতি

বালুচিস্তানে যা ঘটেছে, তা রাজনৈতিক সহিংসতার সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে। এর সাফল্য মাপা হয় দখলকৃত ভূমিতে নয়, বরং কতটা মনোযোগ ও বয়ান তৈরি করা গেছে, তার ওপর।

Xinjiang, Balochistan and FATA - Opinion - Business Recorder

শেষ কথা

রাষ্ট্রের সামনে কাজটি সহজ হলেও কঠিন। অস্ত্রের শব্দ থামানো, প্রচারের ক্ষুধা নষ্ট করা, সহিংস নেটওয়ার্ক ভাঙা এবং যে রাজনৈতিক শূন্যতায় এই সহিংসতা অর্থ খোঁজে, সেটি বন্ধ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের অনড় অবস্থান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ অনিশ্চিত, নকআউটের ভবিষ্যৎও সরকারের হাতে

বালুচিস্তানে সহিংসতা সামরিক অভিযান নয়, রাজনৈতিক বার্তা

০৫:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বালুচিস্তানের বিভিন্ন জেলায় যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তা কোনো সামরিক অভিযান ছিল না, কিংবা ভূখণ্ড দখল বা রাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার প্রচেষ্টাও নয়। যা ঘটেছে, তা ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা—স্বল্প সময়ের, ছড়িয়ে থাকা এবং প্রতীকী।

কীভাবে সংঘটিত হলো এই সহিংসতা

এই হামলাগুলো ছিল মূলত আতঙ্ক সৃষ্টি ও সংকেত দেওয়ার কৌশল। একযোগে একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সক্রিয় হতে বাধ্য করা হলেও বাস্তবে বড় ধরনের যুদ্ধ হয়নি। পুরো ঘটনাপ্রবাহে দুটি জায়গা ছিল মূল কেন্দ্র—কুয়েটা এবং কালাত। কুয়েটা বেছে নেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতীকী গুরুত্বের কারণে, আর কালাত ছিল প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যবস্তু।

Comment: Balochistan: 'political violence', not a military manoeuvre

অন্যান্য এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার উদ্দেশ্য

নুশকি, দালবন্দিন, গ্বাদর, পাসনি, মাস্তুং ও বুয়েলেদা তুম্প অঞ্চলে যা ঘটেছে, সেগুলো মূলত বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা। কোথাও দূরপাল্লার গুলি, কোথাও গ্রেনেড নিক্ষেপ, কোথাও স্বল্প সময়ের সড়ক অবরোধ। এগুলো বারোটি যুদ্ধ ছিল না, বরং দুটি মূল সংঘর্ষ ও একাধিক বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতা।

সামরিক শক্তি নয়, ভয় ও প্রচারের কৌশল

হামলাকারীরা কোথাও ভূখণ্ড দখল, ধরে রাখা বা রক্ষা করার সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। এই তৎপরতার লক্ষ্য ছিল দৃশ্যমানতা, ভয় সৃষ্টি এবং প্রচার। এটি ছিল সামরিক প্রভাব নয়, বরং মানসিক চাপ তৈরির প্রয়াস। সমন্বিত সময় বেছে নেওয়া হলেও বাস্তব সময়ে কোনো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ছিল না, বরং বিচ্ছিন্ন সেলভিত্তিক কার্যক্রমই দেখা গেছে।

রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রণ

নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও কার্যকর। এক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হামলার ধার ভেঙে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয় যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়েনি এবং এটি কোনো বিপ্লবী সামরিক শক্তির উত্থান নয়।

Rising Organized Political Violence in Balochistan: A Resurgence of Baloch  Separatism? | ACLED

আসল লড়াই তথ্য ও বর্ণনার মাঠে

এই সহিংসতার প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র ছিল ভূমি নয়, বরং তথ্য ও বর্ণনা। সামাজিক মাধ্যমে অতিরঞ্জিত প্রচার, আতঙ্ক ছড়ানো এবং ঘটনার ব্যাপ্তি বাড়িয়ে দেখানোই ছিল মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক সংকেতকে যদি সামরিক উত্তেজনা হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে সেটিই উগ্রপন্থীদের কাঙ্ক্ষিত বয়ানকে শক্তিশালী করে।

রাষ্ট্রের করণীয় কী

রাষ্ট্রের উচিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একক ও নির্ভুল বিবৃতি দেওয়া—কী ঘটেছে, কোথায় ঘটেছে, কখন ঘটেছে এবং কী ঘটেনি। যাচাইহীন তথ্য স্পষ্টভাবে আলাদা করে চিহ্নিত করা এবং অতিরঞ্জন দ্রুত সংশোধন করা জরুরি। কৌশল হওয়া উচিত নেটওয়ার্ক ভাঙা, আতঙ্ক নয়।

রাজনৈতিক সহিংসতার প্রকৃতি

বালুচিস্তানে যা ঘটেছে, তা রাজনৈতিক সহিংসতার সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে। এর সাফল্য মাপা হয় দখলকৃত ভূমিতে নয়, বরং কতটা মনোযোগ ও বয়ান তৈরি করা গেছে, তার ওপর।

Xinjiang, Balochistan and FATA - Opinion - Business Recorder

শেষ কথা

রাষ্ট্রের সামনে কাজটি সহজ হলেও কঠিন। অস্ত্রের শব্দ থামানো, প্রচারের ক্ষুধা নষ্ট করা, সহিংস নেটওয়ার্ক ভাঙা এবং যে রাজনৈতিক শূন্যতায় এই সহিংসতা অর্থ খোঁজে, সেটি বন্ধ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।