আমিরাতে সোনা ও রুপার বাজারে সাম্প্রতিক যে হঠাৎ বিক্রির ঢল দেখা গেছে, তা মূলত আতঙ্ক থেকে মুনাফা তুলে নেওয়ার ফল। বাজারসংশ্লিষ্ট জুয়েলার ও বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি দামের ওঠানামা দেখে বিনিয়োগকারীরা লাভ নিশ্চিত করতে ছুটেছেন, তবে এটিকে দুর্দশাজনিত বিক্রি বলা যাবে না। তীব্র দরপতনের পরও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপার আকর্ষণ অটুট রয়েছে।
দাম রেকর্ড ছুঁয়েই বড় পতন
দুবাইয়ে চব্বিশ ক্যারেট সোনার দাম বৃহস্পতিবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে উঠে প্রতি গ্রামে ছয়শ ছেষট্টি দিরহামে পৌঁছায়। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস টেকেনি। সপ্তাহান্তে দাম নেমে আসে প্রায় ছিয়াত্তর দিরহাম কমে। অন্যান্য মানের সোনার দামও রেকর্ডের কাছ থেকে পিছিয়েছে। এই হঠাৎ পতনের পরই দুবাই গোল্ড সুকে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

আতঙ্ক, কিন্তু দুর্বলতা নয়
বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দ্রুত সময়ে দাম রেকর্ড ছোঁয়ার পর সংশোধন আসতেই খুচরা বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ ভয় পেয়ে বিক্রিতে নেমেছেন। সোনা অত্যন্ত তরল সম্পদ হওয়ায় দামের নড়াচড়া দেখেই প্রতিক্রিয়া দ্রুত হয়। তবে এর মানে এই নয় যে সোনা বা রুপার ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। বরং বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘমেয়াদে এই ধাতুগুলোকেই শক্ত রাখছে।
বিশ্ব সংকেতের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও সুদের হারের ইঙ্গিত বদলানোর প্রভাব সরাসরি দামে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে এক আউন্স সোনার দাম শীর্ষ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়ীরা ও লিভারেজভিত্তিক অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত অবস্থান ছাড়েন, যার প্রতিফলন শারীরিক বাজারেও পড়ে।

স্বাভাবিক সংশোধন বলেই দেখছেন জুয়েলাররা
জুয়েলারদের বক্তব্য, রেকর্ড দামের পর এমন সংশোধন পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ। অতিরিক্ত জল্পনা জমে উঠলে বাজার নিজেই ভারসাম্যে ফেরে। এই পর্যায়কে আস্থা হারানোর সংকেত হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা সংগ্রহ, ঝুঁকি সামলাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা জোরালো রাখছে।
আগামীর দিকনির্দেশনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে আতঙ্ক ধীরে ধীরে কমবে। বাজার একটি স্বাস্থ্যকর পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এই ওঠানামাকে অবস্থান শক্ত করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন, যদিও স্বল্পমেয়াদি লেনদেনকারীদের জন্য অস্থিরতা কিছুদিন থাকতে পারে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















