দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। সোমবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা আয়মান রহাত। তিনি বলেন, একের পর এক সহিংস ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আয়মান রহাত জানান, নির্বাচনের সময় দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দোষীদের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রশাসনিক উদাসীনতার স্পষ্ট উদাহরণ বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং প্রকাশ্যেই প্রশাসনের সমর্থনের কথা বলছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ঘটনা
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরিঘাট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সমন্বিত সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি আরও বেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি প্রতিনিধি দল আরও অভিযোগ করে যে, এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই বক্তব্য সত্য হলে নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলে মন্তব্য করেন আয়মান রহাত।

ব্যাংক ও গণভোট প্রসঙ্গ
তিনি আরও বলেন, কৃষিঋণ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো চিঠি নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারকে স্পষ্ট করে। পাশাপাশি গণভোট ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
নিরাপত্তা ও নারী কর্মীদের সুরক্ষা দাবি
শেরপুরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে এনসিপি। একই সঙ্গে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগের দাবি জানানো হয়।
শেষ পর্যন্ত আয়মান রহাত বলেন, নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিলেও বাস্তবে আরও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। তা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















