০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধ বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরা, পরিবেশ নিয়ে নতুন শঙ্কা

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে আবারও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। রাতে এই পদ্ধতিতে মাছ শিকারের পর ভোরে হাওরের পানিতে অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা গেছে। এতে হাওরের ভবিষ্যৎ ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত বিদ্যুৎ শক মেশিন ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাছ ধরা হচ্ছে। এই কাজটি সংগঠিতভাবে হাওরের বিভিন্ন অংশে চালানো হয়। এতে শুধু বড় মাছ নয়, পোনা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা পড়ছে।

পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার এলাকা এবং দেশের বৃহত্তম জলাভূমিগুলোর একটি। এখানে বিপুল জীববৈচিত্র্য রয়েছে, হাজারো পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল এবং প্রতি বছর দেশি-বিদেশি পর্যটক ও পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নির্বিচার একটি পদ্ধতি। এতে প্রজননক্ষম মাছের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পোনাও ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হয় এবং পুরো জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

টাঙ্গুয়ার হাওরে ইলেক্ট্রিক শক মেশিনে মাছ শিকার: হাওরের অস্তিত্ব সংকটে |  দৈনিক আলোকিত সকাল

রাতে অপারেশন, সকালে মৃত মাছ

স্থানীয়রা জানান, কিছু সংঘবদ্ধ চক্র রাতে হাওরের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরে বিদ্যুৎ শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ শিকার করে। বিদ্যুৎ প্রবাহে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাওয়া মাছ সংগ্রহ করা হয়, আর অনেক মাছ পানির ওপরে ভেসে থাকে যা সকালে দেখা যায়।

এতে শুধু মাছের মজুদ নয়, হাওরের সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওর বহু স্বাদুপানির মাছের প্রজননক্ষেত্র এবং খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভবিষ্যতে বড় সংকটের আশঙ্কা

পরিবেশবিদদের সতর্কতা অনুযায়ী, এই অবস্থা চলতে থাকলে হাওরের জীববৈচিত্র্য চরম বিপদের মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের মৎস্য সংকট দেখা দিতে পারে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে রাতে শক মেশিনে মাছ নিধন, পানিতে ভেসে উঠছে মৃত মাছ - Daily  Jugantor Bangladesh

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা হাওর এলাকায় নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের টহল বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অবৈধ শক মেশিন জব্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মাছ ধরার মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের অবস্থান

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে বিদ্যুৎ শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাওরের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধ বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরা, পরিবেশ নিয়ে নতুন শঙ্কা

০২:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে আবারও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। রাতে এই পদ্ধতিতে মাছ শিকারের পর ভোরে হাওরের পানিতে অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা গেছে। এতে হাওরের ভবিষ্যৎ ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত বিদ্যুৎ শক মেশিন ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাছ ধরা হচ্ছে। এই কাজটি সংগঠিতভাবে হাওরের বিভিন্ন অংশে চালানো হয়। এতে শুধু বড় মাছ নয়, পোনা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা পড়ছে।

পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার এলাকা এবং দেশের বৃহত্তম জলাভূমিগুলোর একটি। এখানে বিপুল জীববৈচিত্র্য রয়েছে, হাজারো পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল এবং প্রতি বছর দেশি-বিদেশি পর্যটক ও পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নির্বিচার একটি পদ্ধতি। এতে প্রজননক্ষম মাছের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পোনাও ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হয় এবং পুরো জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

টাঙ্গুয়ার হাওরে ইলেক্ট্রিক শক মেশিনে মাছ শিকার: হাওরের অস্তিত্ব সংকটে |  দৈনিক আলোকিত সকাল

রাতে অপারেশন, সকালে মৃত মাছ

স্থানীয়রা জানান, কিছু সংঘবদ্ধ চক্র রাতে হাওরের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরে বিদ্যুৎ শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ শিকার করে। বিদ্যুৎ প্রবাহে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাওয়া মাছ সংগ্রহ করা হয়, আর অনেক মাছ পানির ওপরে ভেসে থাকে যা সকালে দেখা যায়।

এতে শুধু মাছের মজুদ নয়, হাওরের সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওর বহু স্বাদুপানির মাছের প্রজননক্ষেত্র এবং খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভবিষ্যতে বড় সংকটের আশঙ্কা

পরিবেশবিদদের সতর্কতা অনুযায়ী, এই অবস্থা চলতে থাকলে হাওরের জীববৈচিত্র্য চরম বিপদের মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের মৎস্য সংকট দেখা দিতে পারে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে রাতে শক মেশিনে মাছ নিধন, পানিতে ভেসে উঠছে মৃত মাছ - Daily  Jugantor Bangladesh

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা হাওর এলাকায় নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের টহল বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অবৈধ শক মেশিন জব্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মাছ ধরার মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের অবস্থান

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে বিদ্যুৎ শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাওরের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।