০৮:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

বুরকিনা ফাসোয় সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোয় সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার এক ডিক্রি জারি করে দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। চার বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের পর যেসব দলকে কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই দলগুলোকেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হলো।

ডিক্রি জারির পটভূমি
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার যখন আল-কায়েদা ও আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহ দমনে হিমশিম খাচ্ছে, তখনই ভিন্নমত দমন অভিযানের অংশ হিসেবে এই ডিক্রি জারি করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে সরকারের সমালোচনামুখর কণ্ঠগুলো ক্রমাগত চাপে রয়েছে।

সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

সরকারের ব্যাখ্যা
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানান, এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বহুদলীয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল। সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক বিভাজন তীব্র হয়েছে এবং জাতীয় সংহতি দুর্বল হয়েছে।

সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে
ডিক্রির আওতায় সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব দলের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভ্যুত্থানের আগের রাজনৈতিক চিত্র
সামরিক অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোয় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল শতাধিক। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে অন্তত ১৫টি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

এবার সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো

বর্তমান ক্ষমতার কাঠামো
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ক্ষমতা দখল করেন। তার আট মাস আগেই আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক কাবোরেকে উৎখাত করা হয়েছিল।

পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা জোট
ক্ষমতা নেওয়ার পর সামরিক সরকার সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং নিরাপত্তা সহায়তার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে সরকার বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও মানবাধিকার সংগঠনের ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার স্থগিতের নির্দেশ দেয়।

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত, সামরিক সরকার নিলেন দৃঢ় সিদ্ধান্ত -  আলোকিত স্বদেশ

আঞ্চলিক নতুন জোট
পশ্চিমা প্রভাব থেকে সরে এসে বুরকিনা ফাসো প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাহেল রাষ্ট্রগুলোর জোট গঠন করেছে। এই জোটের লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

বুরকিনা ফাসোয় সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

০৮:৪০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোয় সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার এক ডিক্রি জারি করে দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। চার বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের পর যেসব দলকে কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই দলগুলোকেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হলো।

ডিক্রি জারির পটভূমি
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার যখন আল-কায়েদা ও আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহ দমনে হিমশিম খাচ্ছে, তখনই ভিন্নমত দমন অভিযানের অংশ হিসেবে এই ডিক্রি জারি করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে সরকারের সমালোচনামুখর কণ্ঠগুলো ক্রমাগত চাপে রয়েছে।

সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

সরকারের ব্যাখ্যা
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানান, এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বহুদলীয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল। সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক বিভাজন তীব্র হয়েছে এবং জাতীয় সংহতি দুর্বল হয়েছে।

সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে
ডিক্রির আওতায় সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব দলের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভ্যুত্থানের আগের রাজনৈতিক চিত্র
সামরিক অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোয় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল শতাধিক। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে অন্তত ১৫টি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

এবার সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো

বর্তমান ক্ষমতার কাঠামো
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ক্ষমতা দখল করেন। তার আট মাস আগেই আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক কাবোরেকে উৎখাত করা হয়েছিল।

পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা জোট
ক্ষমতা নেওয়ার পর সামরিক সরকার সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং নিরাপত্তা সহায়তার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে সরকার বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও মানবাধিকার সংগঠনের ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার স্থগিতের নির্দেশ দেয়।

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত, সামরিক সরকার নিলেন দৃঢ় সিদ্ধান্ত -  আলোকিত স্বদেশ

আঞ্চলিক নতুন জোট
পশ্চিমা প্রভাব থেকে সরে এসে বুরকিনা ফাসো প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাহেল রাষ্ট্রগুলোর জোট গঠন করেছে। এই জোটের লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো।