সিলেটে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চৌহাট্টা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।
কোটা সংস্কার নিয়ে উত্তেজনা
আন্দোলনকারীরা প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ কোটার সংস্কার এবং একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিকে বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, এই কোটা ব্যবস্থা ও কমিটি কারিগরি শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক।

সংঘর্ষ ও আহতের দাবি
শিক্ষার্থীদের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকও রয়েছেন। আহতদের কেউ সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, আবার কেউ কাছের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা চৌহাট্টা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা বিক্ষোভের পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী শহীদ মিনারের দিকে চলে যান, তবে কিছু শিক্ষার্থী সড়কেই অবস্থান করেন।
পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি দল পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করেছে। সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল জাকির জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যেতে বোঝানো হয়েছে এবং কেউ আহত হয়নি।
আন্দোলনের দাবি ও সতর্কতা
আন্দোলনকারীরা জানান, বিসিএস প্রকৌশলীদের জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের পদে প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ কোটা বাতিলের দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনাকে আরও বাড়াবে।
তারা অবিলম্বে প্রস্তাবিত কোটা ও সংশ্লিষ্ট সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















