০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বোয়িং ড্রিমলাইনারের জ্বালানি সুইচ নিয়ে প্রশ্নে চাপে এয়ার ইন্ডিয়া শুল্কস্বস্তিতে ভারতের বাজারে স্বল্পমেয়াদি উত্থান, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংশয় রাশিয়ার প্রস্তাবে আবার আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম, সিদ্ধান্ত তেহরানের হাতেই আফ্রিকার বাণিজ্যে সাময়িক স্বস্তি, এক বছরের মেয়াদে বাড়ল মার্কিন অগ্রাধিকার সুবিধা মার্কিন শুল্ক নীতিতে মত বদল ট্রেজারি প্রধানের, মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে আগের বক্তব্য ভুল স্বীকার রাশিয়া বলছে কূটনীতির পথ খোলা, তবে পারমাণবিক চুক্তি শেষে নতুন হুমকির জবাব দেবে মস্কো বেলুচিস্তানে তিন দিনের সংঘর্ষ শেষে নিয়ন্ত্রণ নিল পাকিস্তান, নিহত ৫৮ সিরিয়ায় আইএস লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ দফা হামলা, অস্ত্রভান্ডার ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের নীতিতে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত, সতর্ক করল মানবাধিকার সংস্থা নরসিংদীতে আধিপত্যের সংঘর্ষে গুলিতে ঝরল স্কুলছাত্রের প্রাণ

চট্টগ্রাম বন্দরে টানা ধর্মঘট, থমকে আমদানি-রপ্তানি; বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে টানা কর্মবিরতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমিক ও কর্মচারীদের ধর্মঘট চতুর্থ দিনে গড়াতেই জাহাজ চলাচল, পণ্য খালাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় তীব্র জট তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে শ্রমিক প্রতিনিধি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা নিয়ে বিরোধ

চলমান আন্দোলনের মূল কেন্দ্র নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা। শ্রমিক নেতাদের আশঙ্কা, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে ওঠা লাভজনক এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। দাবি পূরণ না হওয়ায় কয়েক দিনের আংশিক কর্মবিরতির পর পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটে যান শ্রমিকরা। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বন্দরের আধুনিকায়ন ও কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদন উচ্চ আদালতে খারিজ হওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর অচল: তৃতীয় দিনের শ্রমিক ধর্মঘটে রপ্তানি–আমদানি কার্যক্রমে  স্থবিরতা

বাণিজ্যে বড় ধাক্কা ও কনটেইনার জট

দেশের অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কর্মবিরতির প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। জেটি, ইয়ার্ড ও টার্মিনাল এলাকায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। রপ্তানিপণ্যভর্তি হাজার হাজার কনটেইনার জমে রয়েছে এবং বহির্নোঙরে জাহাজের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে শিপিং লাইনগুলো, পাশাপাশি বিলম্বজনিত অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের সতর্কতা ও অর্থনীতির চাপ

ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বন্দরের অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে জাতীয় অর্থনীতিকে বড় মূল্য দিতে হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। জাহাজ খালাস ও পণ্য ওঠানামা বিলম্বিত হওয়ায় প্রতিটি জাহাজে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে শিপিং কোম্পানিগুলোকে, যা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আরও বাড়বে।

টানা তৃতীয় দিনেও অচল চট্টগ্রাম বন্দর: চরম সংকটে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য

বৈঠক, উত্তেজনা ও শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা জরুরি বৈঠক করছেন। একই সময়ে মিছিল, সমাবেশ ও অবরোধে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন শ্রমিককে বদলি করার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর ওপর বাড়তি চাপ

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোগুলোর ওপর আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ নির্ভর করে। প্রতিদিন কয়েক হাজার কনটেইনার বন্দর ও এসব ডিপোর মধ্যে পরিবহন হয়। বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়িং ড্রিমলাইনারের জ্বালানি সুইচ নিয়ে প্রশ্নে চাপে এয়ার ইন্ডিয়া

চট্টগ্রাম বন্দরে টানা ধর্মঘট, থমকে আমদানি-রপ্তানি; বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

১১:৩২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে টানা কর্মবিরতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমিক ও কর্মচারীদের ধর্মঘট চতুর্থ দিনে গড়াতেই জাহাজ চলাচল, পণ্য খালাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় তীব্র জট তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে শ্রমিক প্রতিনিধি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা নিয়ে বিরোধ

চলমান আন্দোলনের মূল কেন্দ্র নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা। শ্রমিক নেতাদের আশঙ্কা, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে ওঠা লাভজনক এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। দাবি পূরণ না হওয়ায় কয়েক দিনের আংশিক কর্মবিরতির পর পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটে যান শ্রমিকরা। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বন্দরের আধুনিকায়ন ও কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদন উচ্চ আদালতে খারিজ হওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর অচল: তৃতীয় দিনের শ্রমিক ধর্মঘটে রপ্তানি–আমদানি কার্যক্রমে  স্থবিরতা

বাণিজ্যে বড় ধাক্কা ও কনটেইনার জট

দেশের অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কর্মবিরতির প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। জেটি, ইয়ার্ড ও টার্মিনাল এলাকায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। রপ্তানিপণ্যভর্তি হাজার হাজার কনটেইনার জমে রয়েছে এবং বহির্নোঙরে জাহাজের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে শিপিং লাইনগুলো, পাশাপাশি বিলম্বজনিত অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের সতর্কতা ও অর্থনীতির চাপ

ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বন্দরের অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে জাতীয় অর্থনীতিকে বড় মূল্য দিতে হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। জাহাজ খালাস ও পণ্য ওঠানামা বিলম্বিত হওয়ায় প্রতিটি জাহাজে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে শিপিং কোম্পানিগুলোকে, যা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আরও বাড়বে।

টানা তৃতীয় দিনেও অচল চট্টগ্রাম বন্দর: চরম সংকটে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য

বৈঠক, উত্তেজনা ও শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা জরুরি বৈঠক করছেন। একই সময়ে মিছিল, সমাবেশ ও অবরোধে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন শ্রমিককে বদলি করার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর ওপর বাড়তি চাপ

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোগুলোর ওপর আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ নির্ভর করে। প্রতিদিন কয়েক হাজার কনটেইনার বন্দর ও এসব ডিপোর মধ্যে পরিবহন হয়। বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।