যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক ফোনালাপে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন এ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত সয়াবিন কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তকে সদিচ্ছার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরের আগে।
সম্পর্কে উষ্ণতার বার্তা
ফোনালাপের পর ট্রাম্প আলোচনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক ভালো রাখা জরুরি বলে মত দেন। চীনের পক্ষ থেকেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নভেম্বরের পর এটাই দুই নেতার প্রথম সরাসরি যোগাযোগ, যা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক বার্তা
আলোচনায় তাইওয়ান প্রশ্নটি আবারও সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বড় অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে চীন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করলেও তাইপে সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চীনের সঙ্গে রাখলেও তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা নীতিতে অটল রয়েছে।
বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা
ফোনালাপে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান, জ্বালানি এবং বিমান প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পারস্পরিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুরোপুরি অবনতির দিকে না নিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখতে চায়।

সয়াবিনকে ঘিরে অর্থনৈতিক হিসাব
চীন বিশ্বের বৃহত্তম সয়াবিন আমদানিকারক এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য এই বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এখন চীন যদি কেনা বাড়ায়, তবে তা কৃষি ও বাজার উভয়ের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহ সক্ষমতা ও বৈশ্বিক চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
সম্ভাব্য বেইজিং সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা
এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে সামনে রেখে দুই দেশ সমঝোতার ক্ষেত্র খুঁজছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার সাক্ষাতে যে বাণিজ্যিক সমঝোতা হয়েছিল, সেটির ধারাবাহিকতাও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















