বরিশালের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামিকে ‘গোপন সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই শক্তি দেশে নতুন করে রাজনৈতিক নিপীড়নের উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি জনসভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিলে ভিড় থেকে একসঙ্গে উচ্চারিত হয় ‘জামায়াত নির্যাতনকারী’। এর জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন এক নির্যাতনকারীর আবির্ভাব ঘটেছে এবং এই গোপন সংগঠনের লোকজন জনগণের সামনে সেই রূপেই হাজির হয়েছে।
নারীর মর্যাদা নিয়ে কড়া অবস্থান
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের নারীরা যুগে যুগে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কৃষিক্ষেত্র, কলকারখানা ও শিল্পে কাজ করেছেন এবং দেশের তৈরি পোশাক খাতকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এক জামায়াত নেতার নারীবিষয়ক মন্তব্যকে তিনি অশালীন ও অসম্মানজনক বলে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, যে রাজনৈতিক শক্তি দেশের মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না, তারা কখনোই দেশের উন্নয়ন বা মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে না।
ইসলামের ইতিহাসে নারীর অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, হযরত খাদিজা ছিলেন সফল ব্যবসায়ী এবং হযরত আয়েশা বদরের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে ইসলামের রাজনীতি করার দাবি যারা করে, তারা কীভাবে নারীদের অবমূল্যায়ন করে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নারী ক্ষমতায়নে নতুন পরিকল্পনা
তারেক রহমান বলেন, নারীদের ঘরে আটকে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, খালেদা জিয়ার সরকার মেয়েদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। ক্ষমতায় গেলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে পরিবার কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে কর্মজীবী নারী ও গৃহিণীরা পরিবারের ও সমাজের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন। পাশাপাশি মা ও মেয়েদের জন্য ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
গোপন সংগঠন নিয়ে সতর্কবার্তা
ইঙ্গিতপূর্ণভাবে এক জামায়াত নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে নত হওয়ার কথা বললেও পরে জনগণকেই তাদের সামনে নত হতে হবে—এমন মন্তব্য জনবিরোধী মানসিকতার প্রমাণ। তিনি অভিযোগ করেন, এই গোপন সংগঠনের সদস্যরা ভুয়া ব্যালট ছাপানো এবং নারীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহের মতো অনৈতিক কাজে জড়িত। তার মতে, অনৈতিক পথে যাত্রা শুরু করা শক্তি কখনো সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তাই ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষক, শিল্প ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি
জনসভায় কৃষকদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার নির্মাণ, প্রয়োজন অনুযায়ী বীজ ও সার সরবরাহে কৃষি কার্ড চালু এবং দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প স্থাপন ও স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরির কথাও বলেন তিনি।
বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়নে বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়ন, ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা ও সতর্কতার আহ্বান
দুপুরে হেলিকপ্টারে বরিশালে এসে জনসভা শেষে তিনি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন এবং সেখানেও নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। তারেক রহমান বলেন, দেশকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। যারা জনগণকে সম্মান করে না এবং নির্বাচনের পর নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















