ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনার প্রথম দিন শেষ হয়েছে ‘গঠনমূলক’ পরিবেশে। মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ইউরোপের দীর্ঘতম চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের দূরত্ব এখনো স্পষ্ট।
আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সতর্ক আশাবাদ
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক জানিয়েছেন, বৈঠকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ও কার্যকর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়ে বলেছেন, আলোচনার ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংলাপ যেন কেবল সময়ক্ষেপণের কৌশল না হয়ে সত্যিকারের শান্তির পথ তৈরি করে। তাঁর মতে, মস্কোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা জরুরি, যাতে যুদ্ধ শেষের বাস্তব অগ্রগতি মানুষ অনুভব করতে পারে।
যুদ্ধের মানবিক মূল্য ও নতুন বন্দি বিনিময়ের আশা
প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনীয় সেনার সংখ্যা প্রায় পঞ্চান্ন হাজারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই নতুন বন্দি বিনিময়ের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আলোচনার মাঝেই পূর্বাঞ্চলে বাজারে হামলায় হতাহতের ঘটনা পরিস্থিতির নাজুক বাস্তবতাকে আবার সামনে এনে দিয়েছে।
মূল ইস্যুতে তীব্র মতবিরোধ
সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে ভূখণ্ড প্রশ্ন এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ। মস্কো পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারকে চুক্তির শর্ত হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে কিয়েভ বর্তমান যুদ্ধরেখা ধরে সংঘাত স্থির করার প্রস্তাব দিচ্ছে এবং একতরফা সেনা প্রত্যাহার মানতে নারাজ। ক্রেমলিন বলছে, যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।

ভূখণ্ড দখল ও সামরিক বাস্তবতা
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়েও কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে গেছে। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, সামগ্রিকভাবে রাশিয়া এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারছে না।
জনমতের চাপ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
জনমত জরিপ বলছে, অধিকাংশ ইউক্রেনীয়ই ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে কোনো সমঝোতা চান না। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন আলোচনার ফল নিয়ে সংশয় স্পষ্ট। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও স্থায়ী শান্তির পথ এখনো জটিল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















