প্রায় চার মাসের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারও রক্ত ঝরল গাজায়। বুধবার ইসরায়েলি ট্যাংক গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সাম্প্রতিক এই সহিংসতা চলমান যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
একই স্থানে দ্বিতীয় হামলায় নিহত চিকিৎসাকর্মী
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে এক হামলায় আহতদের উদ্ধার করতে ছুটে যাওয়া এক চিকিৎসাকর্মী পরবর্তী আরেকটি হামলায় নিহত হন। উত্তরের গাজা শহরেও হামলায় পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক স্বজন বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের বাড়িতে গোলা পড়ে সন্তান ও স্বজনদের প্রাণ কেড়ে নেয়, অথচ তারা কোনো সংঘাতে জড়িত ছিলেন না।
খান ইউনিসের উপকূলীয় মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী তাঁবুও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠীই ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি ও হামাসের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে এক সেনা গুরুতর আহত হন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার একটি লক্ষ্য ছিল হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। একই দিনে ইসলামিক জিহাদের এক কমান্ডার ও তার কন্যার মৃত্যুর খবর ও স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে হামাস বলেছে, এসব হামলা যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাকে ভেঙে দিচ্ছে এবং তা বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন।
রাফা সীমান্তে অনিশ্চয়তা
মিশরের সঙ্গে গাজার প্রধান রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়া যুদ্ধবিরতির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। তবে নতুন করে রোগী পারাপার স্থগিত হওয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে জানানো হয়, সীমান্ত খোলা থাকলেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় না থাকায় পারাপার বিলম্বিত হয়েছে। এক পর্যায়ে ৪৬ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন মিশরে যেতে পারেন, বাকিরা গাজায় ফিরে আসেন।

এর আগে সীমান্ত খোলার পর কিছু রোগী ও তাদের স্বজন মিশরে প্রবেশ করেছিলেন এবং মিশর থেকেও অনেকে গাজায় ফিরেছিলেন।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আগে উত্তেজনা
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত। ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি।
অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। একই সময়ে ফিলিস্তিনি হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিদিনের সহিংসতা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















