দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও অপরাধের অভিযোগে বিতর্কিত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিকে ঘিরেই এখন নতুন বিনিয়োগ স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। দেশটির বিপুল তেল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি খাতে শত বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ টানার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই পথ জটিল আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকিতে ভরা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নিষেধাজ্ঞার ছায়ায় বিনিয়োগ পরিকল্পনা
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে অতীতে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এখন বিদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিস্থিতি এক ধরনের আইনি অনিশ্চয়তার ক্ষেত্র তৈরি করছে, কারণ দেশটির বিশাল তেলসম্পদে প্রবেশ করতে হলে এই কোম্পানির সঙ্গে ই কাজ করতে হবে।
উৎপাদন পতন থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার উৎপাদন একসময় দৈনিক ত্রিশ লাখ ব্যারেল থেকে নেমে কয়েক লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা বেড়ে প্রায় নয় লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি এসেছে। নতুন নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে দেশটিকে বড় তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব।
আইন পরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভেনিজুয়েলার তেল শিল্প সংক্রান্ত আইন সংশোধন করেছে, যা দীর্ঘদিনের কড়া রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ নীতির বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করা হয়েছে, ফলে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটির নেতৃত্ব।
আন্তর্জাতিক কোম্পানির সংশয়
তবে বড় তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখনো সতর্কতা রয়েছে। কেউ কেউ দেশটিকে বিনিয়োগের অনুপযোগী বলেও মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ শর্তসাপেক্ষে কার্যক্রম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ ও নিষেধাজ্ঞার অভিযোগে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে অনেক বিদেশি কোম্পানি দ্বিধায় থাকবে।
রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যবস্থাপক ভূমিকায় রূপান্তর
নতুন কাঠামো অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সরাসরি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ কমে গিয়ে বিনিয়োগ চুক্তি তদারকির ভূমিকায় চলে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশেরও কম অংশ সরাসরি পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি। এই পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















