সমকালীন রাজনীতি, ক্ষমতার নির্মমতা এবং মানবিক সংকটের এক অদ্ভুত ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মঞ্চে তুলেছে নতুন অপেরা ‘দানবের স্বর্গ’। অস্ট্রিয়ান সুরকার ওলগা নয়ভির্থের দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর নির্মিত এই পূর্ণাঙ্গ মঞ্চকর্মটি শক্তিমান শাসকের অন্তর্গত অস্থিরতা ও বিকৃত বাস্তবতাকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করেছে।
ক্ষমতার ভেতরের অদ্ভুত সত্য
অপেরাটির কেন্দ্রে রয়েছে ‘রাজা-রাষ্ট্রপতি’ নামের এক চরিত্র, যাকে ঘিরে চাটুকার সহযোগী ও জীবন্ত মৃতদের কোরাস। তাদের মুখোমুখি দাঁড়ায় প্রতিশোধপরায়ণ এক দানবীয় সত্তা। নির্মাতা তোবিয়াস ক্রাৎসার মনে করেন, প্রতিটি জনতুষ্টিবাদী শাসকের ভেতরেই এক ধরনের শিশুসুলভ বিকৃতি লুকিয়ে থাকে, যা হাস্যকর হলেও বিপজ্জনক। এই দ্বৈততা থেকেই অপেরাটির নাটকীয় শক্তি তৈরি হয়েছে।
ব্যঙ্গ, ট্র্যাজেডি ও অন্ধকার সময়ের প্রতিফলন
নয়ভির্থের সঙ্গীত ও নোবেলজয়ী লেখক এলফ্রিডে ইয়েলিনেকের জটিল ভাষা একত্রে আমাদের সময়ের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে। সুরকারের ভাষায়, বাস্তবতা এতটাই নির্মম যে তাকে ধরতে হলে বাড়িয়ে বলা হাস্যরসের আশ্রয় নিতে হয়। ফলে অপেরাটি একই সঙ্গে ট্র্যাজেডি ও প্রহসন—অন্ধকার রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, যা ধীরে ধীরে গভীরতর জগতে প্রবেশ করে।
দীর্ঘ সহযোগিতার শিল্পভাষা
দুই শিল্পীর তিন দশকেরও বেশি পুরোনো সহযোগিতা উচ্চ ও নিম্ন সাংস্কৃতিক উপাদানের সংঘাতে নির্মিত। লোকসঙ্গীত, ধ্রুপদি ঐতিহ্য, চলচ্চিত্রধর্মী সুর এবং বিকৃত শব্দ প্রকৌশল মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিকর অথচ তীক্ষ্ণ সঙ্গীতভাষা। এতে যেমন হাস্যরস আছে, তেমনি অস্বস্তিও রয়ে যায়।
ব্যক্তিগত শোক থেকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ
এই অপেরা রচনার সময় সুরকার ব্যক্তিগত বেদনাও অনুভব করেছেন। মায়ের অসুস্থতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার অমানবিকতা এবং মর্যাদাহীন মৃত্যুর অভিজ্ঞতা তাকে ক্ষমতার ধ্বংসাত্মক রূপ নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা শিল্পে রূপ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গকে আরও তীব্র করেছে।
হাসির ভয়েই কাঁপে স্বৈরশাসন
নয়ভির্থ বিশ্বাস করেন, ক্ষমতাধররা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় উপহাসকে। শক্তিকে ছোট করে দেখানোর এই শিল্পী সুলভ কৌশলই অপেরাটির মূল ক্যাথারসিস—ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বেদনা থেকে মুক্তির এক সৃজনশীল পথ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















