অ্যান্টার্কটিকার দ্রুত গলতে থাকা থোয়েটস হিমবাহের নিচে বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বসানোর সাহসী অভিযান শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে বরফের ফাঁদে আটকে গিয়ে। তবু শেষ মুহূর্তে সংগৃহীত আংশিক তথ্য বিজ্ঞানীদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন উদ্বেগের দরজা, যেখানে উষ্ণ ও অস্থির সাগর জলের উপস্থিতি ভবিষ্যৎ সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে তুলছে।
অভিযানের লক্ষ্য ও বৈশ্বিক শঙ্কা
ব্রিটিশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকদের একটি দল বিশাল এই হিমবাহের নিচে যন্ত্র বসিয়ে এমন তথ্য সংগ্রহ করতে চেয়েছিল, যা আগে কখন ও পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, থোয়েটস থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ভেঙে পড়লে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফ স্তর দ্রুত সাগরে নেমে যেতে পারে। এর ফলে আগামী শতাব্দীগুলোতে বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মক প্লাবনের মুখে পড়তে পারে।
বরফ গলিয়ে গভীরে পৌঁছানোর লড়াই
দলটি উত্তপ্ত পানির প্রবল ধারা ব্যবহার করে প্রায় এক ফুট প্রশস্ত এবং হাজার হাজার ফুট গভীর একটি ছিদ্র তৈরি করে হিমবাহের তলদেশে পৌঁছায়। সময় ছিল অতি সীমিত, কারণ ছিদ্রটি দ্রুত পুনরায় জমে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল এবং খারাপ আবহাওয়া এগিয়ে আসছিল। প্রাথমিকভাবে নামানো যন্ত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিললেও স্থায়ীভাবে বসানোর জন্য নামানো দীর্ঘ তারবাহী যন্ত্র মাঝপথেই আটকে যায় এবং পানিতে পৌঁছাতে পারেনি। প্রায় এক দশকের প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়ে।
ব্যর্থতার মুহূর্ত ও কারণ
বিজ্ঞানীরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন বরফের খণ্ড ভেঙে পড়ে পথ আটকে দিয়েছে। পরে তথ্য বিশ্লেষণে বোঝা যায়, নিচের ভারী ধাতব শৃঙ্খল সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া বরফের পথে আটকে থাকতে পারে এবং তার ওপর জমে গেছে পুরো কাঠামো। মাত্র বিশ মিনিটের চেষ্টার পরই দলটি বুঝতে পারে মিশন আর এগোনোর নয়। সময় ফুরিয়ে যাওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় বাধা।
তবু আশার নতুন তথ্য
ব্যর্থতার মাঝেও শনিবার সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করছেন গবেষকেরা। হিমবাহের নিচের জল অস্থির ও তুলনামূলক উষ্ণ, যা দ্রুত গলনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এই তথ্য ভবিষ্যতে থোয়েটস কত দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে। অভিযানের প্রধান বিজ্ঞানীর ভাষায়, এটি শেষ নয়; বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট দিকনির্দেশ।
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্পটির ধারণা আসে প্রায় এক দশক আগে। আগের এক প্রচেষ্টায় গবেষকরা হিমবাহে পৌঁছাতে পারেননি। এবারের অভিযান অনেক দূর এগোলেও শেষ সাফল্য ধরা দেয়নি। তবু সংগৃহীত অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ অভিযানের পথ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষণা থেমে থাকলে গতি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, তাই আবারও ফিরে আসার প্রস্তুতির কথাই ভাবছেন তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















