যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী চিকিৎসক সংগঠন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত অস্ত্রোপচার না করার সুপারিশ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি–সুবিধার ভারসাম্য স্পষ্ট নয়—এই যুক্তিতে তারা চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির চিকিৎসা ও রাজনৈতিক পরিসরে এ ধরনের অস্ত্রোপচার নিয়ে সমর্থন কমার প্রবণতার মধ্যেই এর অবস্থান সামনে এল।
চিকিৎসকদের নতুন নির্দেশনা
১১ হাজারের বেশি শল্যচিকিৎসকের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটি জানিয়েছে, জীবন বদলে দিতে পারে এমন অস্ত্রোপচার কমপক্ষে উনিশ বছর বয়সের আগে না করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, কিশোরদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সুফল ঝুঁকির তুলনায় বেশি—এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়েও উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ঝুঁকি ও অপরিবর্তনীয়তার প্রশ্ন
সংগঠনের সাবেক এক সভাপতি বলেছেন, কিশোর বয়স অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় এবং কিছু অস্ত্রোপচার স্থায়ীভাবে শরীরে পরিবর্তন ঘটায়, যা পরে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
রাজনীতি ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য নেতৃত্ব অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এসব অস্ত্রোপচার সীমিত করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে চিকিৎসক সংগঠনের অবস্থানকে বৈজ্ঞানিক সতর্কতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতিগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন তরুণদের জন্য লিঙ্গ পরিবর্তন সংক্রান্ত চিকিৎসায় সরকারি সহায়তা বন্ধ সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে রাজ্য পর্যায়ে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছে। আইন প্রণেতারা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে এমন চিকিৎসা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যদিও জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
পরিচয় সংক্রান্ত প্রবণতায় পরিবর্তন
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার হার আগের তুলনায় কমেছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসায় সামাজিক ও চিকিৎসা বিষয়ক আলোচনায় নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















