১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারে আপত্তি শীর্ষ চিকিৎসক সংগঠনের মার্কিন অভিজাতদের ‘অশ্লীল ঘনিষ্ঠতা’ ফাঁস, এপস্টিন নথি ঘিরে তীব্র মন্তব্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ভেনেজুয়েলার তেলে শত বিলিয়ন ডলারের বাজি, ভরসা ভাঙা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ভারতে গণবাতিল উড়ান নিয়ে বড় তদন্ত, প্রতিযোগিতা লঙ্ঘনের অভিযোগে চাপের মুখে ইন্ডিগো ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা স্থবির ও বাধাগ্রস্ত ছিল: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় বন্দি বিনিময় চুক্তি, তবু যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা: অবাধ ভোট না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে গণতন্ত্র তরুণদের হাতে দেশের হাল ধরার আহ্বান, বেকার ভাতার বদলে দক্ষতা ও মর্যাদার প্রতিশ্রুতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল ফাইনাল ঘিরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ২০ বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারবে পাকিস্তান?

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা স্থবির ও বাধাগ্রস্ত ছিল: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল না এবং কিছু ক্ষেত্রে তা স্থবির হয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সম্পর্ককে আবারও স্বাভাবিক ও মসৃণ করতে পারবে।

সম্পর্কে ভিন্ন প্রত্যাশা ও স্বার্থের পার্থক্য
বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৌহিদ হোসেন বলেন, শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক কর্মসম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্ব দিয়েছে এবং উদ্ভূত সমস্যার জন্য কাউকে দোষারোপ করতে চায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় যেমনভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশও তেমনি নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের প্রত্যাশা একে অপরের সঙ্গে মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের স্বার্থ উপলব্ধির দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সময়জুড়ে টানাপোড়েন
আগের সরকারের সময় যে সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’ বলা হতো, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়েই তা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। বিভিন্ন ইস্যুর কারণে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ও বৃহত্তর কূটনৈতিক অস্বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সরকারের প্রতি আশাবাদ
বিদায়ী পর্যায়ের এই মতবিনিময়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজে পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর উত্তরসূরি ও নতুন সরকারের সময়ে আবারও একটি মসৃণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কেই কিছু সমস্যা ও স্বার্থসংঘাত থাকে। তবু একটি স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ ছিল না এবং কয়েকটি ধাক্কার কারণে তা আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

শেখ হাসিনার অবস্থান ও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই; বরং আশাবাদী হতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানের পথ বের হবে।
ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যা করা হয়েছে, সেটুকুই বলা যায়। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যাবর্তন চেয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পায়নি। এর বেশি নিয়ে অনুমান করা সমীচীন নয়।

সুসম্পর্কের চেষ্টা অব্যাহত ছিল
তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সরকারের উদ্দেশ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না; পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক সম্পর্কই লক্ষ্য ছিল।
তবে প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পর্ক এগিয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি নিশ্চিতভাবে সাফল্যের দাবি করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের সংকট না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা নয়
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো বোঝা রেখে যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন ইস্যু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন প্রশাসনের কাজ সহজ করার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শুল্কচুক্তির কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, কিছু চুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।

গণমাধ্যমে হামলার নিন্দা
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্বীকার করেন, সরকার এসব ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করতে পারবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উত্থাপনের পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারে আপত্তি শীর্ষ চিকিৎসক সংগঠনের

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা স্থবির ও বাধাগ্রস্ত ছিল: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

০৯:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল না এবং কিছু ক্ষেত্রে তা স্থবির হয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সম্পর্ককে আবারও স্বাভাবিক ও মসৃণ করতে পারবে।

সম্পর্কে ভিন্ন প্রত্যাশা ও স্বার্থের পার্থক্য
বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৌহিদ হোসেন বলেন, শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক কর্মসম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্ব দিয়েছে এবং উদ্ভূত সমস্যার জন্য কাউকে দোষারোপ করতে চায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় যেমনভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশও তেমনি নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের প্রত্যাশা একে অপরের সঙ্গে মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের স্বার্থ উপলব্ধির দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সময়জুড়ে টানাপোড়েন
আগের সরকারের সময় যে সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’ বলা হতো, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়েই তা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। বিভিন্ন ইস্যুর কারণে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ও বৃহত্তর কূটনৈতিক অস্বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সরকারের প্রতি আশাবাদ
বিদায়ী পর্যায়ের এই মতবিনিময়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজে পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর উত্তরসূরি ও নতুন সরকারের সময়ে আবারও একটি মসৃণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কেই কিছু সমস্যা ও স্বার্থসংঘাত থাকে। তবু একটি স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ ছিল না এবং কয়েকটি ধাক্কার কারণে তা আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

শেখ হাসিনার অবস্থান ও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই; বরং আশাবাদী হতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানের পথ বের হবে।
ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যা করা হয়েছে, সেটুকুই বলা যায়। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যাবর্তন চেয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পায়নি। এর বেশি নিয়ে অনুমান করা সমীচীন নয়।

সুসম্পর্কের চেষ্টা অব্যাহত ছিল
তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সরকারের উদ্দেশ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না; পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক সম্পর্কই লক্ষ্য ছিল।
তবে প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পর্ক এগিয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি নিশ্চিতভাবে সাফল্যের দাবি করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের সংকট না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা নয়
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো বোঝা রেখে যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন ইস্যু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন প্রশাসনের কাজ সহজ করার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শুল্কচুক্তির কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, কিছু চুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।

গণমাধ্যমে হামলার নিন্দা
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্বীকার করেন, সরকার এসব ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করতে পারবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উত্থাপনের পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।