১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাশিয়ার রপ্তানি সংকটে বাজেট চাপ, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারে আপত্তি শীর্ষ চিকিৎসক সংগঠনের মার্কিন অভিজাতদের ‘অশ্লীল ঘনিষ্ঠতা’ ফাঁস, এপস্টিন নথি ঘিরে তীব্র মন্তব্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ভেনেজুয়েলার তেলে শত বিলিয়ন ডলারের বাজি, ভরসা ভাঙা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ভারতে গণবাতিল উড়ান নিয়ে বড় তদন্ত, প্রতিযোগিতা লঙ্ঘনের অভিযোগে চাপের মুখে ইন্ডিগো ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা স্থবির ও বাধাগ্রস্ত ছিল: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় বন্দি বিনিময় চুক্তি, তবু যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা: অবাধ ভোট না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে গণতন্ত্র তরুণদের হাতে দেশের হাল ধরার আহ্বান, বেকার ভাতার বদলে দক্ষতা ও মর্যাদার প্রতিশ্রুতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল ফাইনাল ঘিরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ২০

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা: অবাধ ভোট না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে গণতন্ত্র

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ উদাসীন থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। খুলনা প্রেস ক্লাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে শঙ্কা

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কালো টাকার প্রবাহ বন্ধে সরকারের হাতে এখনও সাত দিন সময় রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর এসব দায়িত্ব সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারপ্রধান অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ ভয়মুক্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না।

নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ

নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এমনকি তাদের বোরকা ও মুখের আবরণ টেনে খুলে ফেলা হচ্ছে। গর্ভবতী নারীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে একজন রাজনৈতিক নেতার নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, নারীর মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।

সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, খুলনা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক প্রতিনিধিদের বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রচারণায় বাধা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

ফুলতলা ও ডুমুরিয়া এলাকায় তার নির্বাচনী প্রচারণা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্ধারিত সভা পণ্ড করা, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং সভা শুরুর আগেই আসন সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলেও কোনো গ্রেপ্তার বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ বিতরণ করছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে তার অভিযোগ। কালো টাকার প্রভাব রাজনীতিকে দূষিত করছে এবং কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রশাসনের কাছে

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থানায় সন্ত্রাসীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বা সহিংস ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তরিকতার ঘাটতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি জানান, আসনের ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটার ভয়ভীতি, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও আগাম ব্যালট অপসারণের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব কেন্দ্রের লিখিত তালিকা প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার রপ্তানি সংকটে বাজেট চাপ, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা: অবাধ ভোট না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে গণতন্ত্র

০৯:৩২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ উদাসীন থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। খুলনা প্রেস ক্লাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে শঙ্কা

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কালো টাকার প্রবাহ বন্ধে সরকারের হাতে এখনও সাত দিন সময় রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর এসব দায়িত্ব সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারপ্রধান অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ ভয়মুক্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না।

নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ

নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এমনকি তাদের বোরকা ও মুখের আবরণ টেনে খুলে ফেলা হচ্ছে। গর্ভবতী নারীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে একজন রাজনৈতিক নেতার নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, নারীর মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।

সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, খুলনা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক প্রতিনিধিদের বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রচারণায় বাধা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

ফুলতলা ও ডুমুরিয়া এলাকায় তার নির্বাচনী প্রচারণা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্ধারিত সভা পণ্ড করা, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং সভা শুরুর আগেই আসন সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলেও কোনো গ্রেপ্তার বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ বিতরণ করছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে তার অভিযোগ। কালো টাকার প্রভাব রাজনীতিকে দূষিত করছে এবং কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রশাসনের কাছে

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থানায় সন্ত্রাসীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বা সহিংস ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তরিকতার ঘাটতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি জানান, আসনের ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটার ভয়ভীতি, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও আগাম ব্যালট অপসারণের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব কেন্দ্রের লিখিত তালিকা প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।