ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ ঘিরে নতুন বিনিয়োগের আশায় বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। কিন্তু সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রেই রয়েছে নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ, যার অতীত নিয়ে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অপরাধের গুরুতর অভিযোগ। ফলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে তৈরি হয়েছে জটিল আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিনিয়োগের আশা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এখন একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভর করেই ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে প্রায় একশ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রবাহের আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় ব্যবসা করতে চাইলে পিডিবি এস এর সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
তেল উৎপাদনের উত্থান-পতনের ইতিহাস
বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুদ ভেনেজুয়েলায় থাকলেও দেশটির উৎপাদন একসময় দৈনিক ত্রিশ লাখ ব্যারেল থেকে নেমে স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর সময় সর্বনিম্ন তিন লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। বর্তমানে তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় নয় লাখ ব্যারেলে রয়েছে। মাদুরো আটক হওয়ার পর তেল শিল্পের আইন পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ ভিত্তিক নীতির বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পিডিভিএসএর ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির সুযোগ বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর দ্বিধা
তবে বড় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর অনেকেই এখনও ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক। কেউ কেউ দেশটিকে বিনিয়োগের অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের মতে, সরকারের নীতিগত পরিবর্তন ও স্থিতিশীলতা এলে কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়ে অনেক কোম্পানি নৈতিক ও আইনি সংকটে পড়তে পারে।
নতুন মডেলের পিডিএস এর ভূমিকা
নতুন নীতিতে পিডিভিএসএ সরাসরি কঠোর রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পরিবর্তে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি ব্যবস্থাপনার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি মোট উৎপাদনের ছোট একটি অংশ পরিচালনা করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই আশা করছে, এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে এবং দেশটির তেল উৎপাদন আবার বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হবে।
Sarakhon Report 
























