০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় বন্দি বিনিময় চুক্তি, তবু যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সংঘাতের অবসান ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় টানা দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শেষ হয়েছে। আলোচনার ফল হিসেবে দুই পক্ষ বড় ধরনের বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য মানবিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি কিংবা স্থায়ী সমঝোতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

আলোচনায় অগ্রগতি, কিন্তু সমাধান দূরে
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদল মোট ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। তিনি এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ধারাবাহিক সংলাপ বাস্তব অগ্রগতি এনে দিচ্ছে এবং যুদ্ধ শেষের পথ খুলে দিচ্ছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছে। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ প্রথম দিনের বৈঠককে অর্থবহ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপকেন্দ্রিক বলে মন্তব্য করেন। রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভও অগ্রগতির কথা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান।

বন্দি বিনিময়ে দীর্ঘ বিরতির অবসান
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দি ফিরিয়ে দিয়েছে এবং কুরস্ক অঞ্চল থেকে তিনজন বেসামরিক নাগরিক রাশিয়ায় ফিরেছে। এর আগে সর্বশেষ বন্দি বিনিময় হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক দফা আলোচনায় এটিই ছিল একমাত্র দৃশ্যমান মানবিক সাফল্য। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে দুই পক্ষের বিপুলসংখ্যক সেনা নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে, যদিও আহত ও নিখোঁজের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

যুদ্ধ থামেনি, বাড়ছে চাপ
আলোচনা চললেও ময়দানের সংঘর্ষ থামেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া বড় ধরনের বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ইউক্রেন দাবি করেছে। একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানার কথাও জানিয়েছে। প্রায় বারোশ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্মুখসারজুড়ে লড়াই অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলকে ঘিরে সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র।

দোনেৎস্ক ও পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে অচলাবস্থা
সমঝোতার সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ। রাশিয়া চায় ইউক্রেন পুরো অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিক, কিন্তু কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বর্তমান সম্মুখসার বরাবর সংঘাত স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চায়, যা বর্তমানে রুশ দখলে রয়েছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বললেও কেন্দ্রটির মালিকানা নিজেদের হাতেই রাখতে চায়।

মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রুশ দখলে
ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রায় বিশ শতাংশ ভূখণ্ড এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাশিয়া ধীরে ধীরে আরও কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ এখনো জটিল ও অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় বন্দি বিনিময় চুক্তি, তবু যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

০৯:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সংঘাতের অবসান ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় টানা দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শেষ হয়েছে। আলোচনার ফল হিসেবে দুই পক্ষ বড় ধরনের বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য মানবিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি কিংবা স্থায়ী সমঝোতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

আলোচনায় অগ্রগতি, কিন্তু সমাধান দূরে
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদল মোট ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। তিনি এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ধারাবাহিক সংলাপ বাস্তব অগ্রগতি এনে দিচ্ছে এবং যুদ্ধ শেষের পথ খুলে দিচ্ছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছে। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ প্রথম দিনের বৈঠককে অর্থবহ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপকেন্দ্রিক বলে মন্তব্য করেন। রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভও অগ্রগতির কথা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান।

বন্দি বিনিময়ে দীর্ঘ বিরতির অবসান
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দি ফিরিয়ে দিয়েছে এবং কুরস্ক অঞ্চল থেকে তিনজন বেসামরিক নাগরিক রাশিয়ায় ফিরেছে। এর আগে সর্বশেষ বন্দি বিনিময় হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক দফা আলোচনায় এটিই ছিল একমাত্র দৃশ্যমান মানবিক সাফল্য। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে দুই পক্ষের বিপুলসংখ্যক সেনা নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে, যদিও আহত ও নিখোঁজের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

যুদ্ধ থামেনি, বাড়ছে চাপ
আলোচনা চললেও ময়দানের সংঘর্ষ থামেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া বড় ধরনের বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ইউক্রেন দাবি করেছে। একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানার কথাও জানিয়েছে। প্রায় বারোশ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্মুখসারজুড়ে লড়াই অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলকে ঘিরে সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র।

দোনেৎস্ক ও পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে অচলাবস্থা
সমঝোতার সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ। রাশিয়া চায় ইউক্রেন পুরো অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিক, কিন্তু কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বর্তমান সম্মুখসার বরাবর সংঘাত স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চায়, যা বর্তমানে রুশ দখলে রয়েছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বললেও কেন্দ্রটির মালিকানা নিজেদের হাতেই রাখতে চায়।

মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রুশ দখলে
ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রায় বিশ শতাংশ ভূখণ্ড এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাশিয়া ধীরে ধীরে আরও কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ এখনো জটিল ও অনিশ্চিত।