০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছুটি চেয়েও পেলেন না, সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পুলিশ সদস্যের হৃদয়বিদারক আক্ষেপ নির্বাচনে ‘আমার অভাব’ পূরণ করেছে ঢাকা-৮ এর এক প্রার্থী, মন্তব্যে নতুন আলোচনা সংস্কারের ডাক মির্জা ফখরুলের, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে পরিবর্তনের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক নতুন মোড়ে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা পাঁচ দিনের ছুটি, নির্বাচনের আবহে বদলে যাচ্ছে ক্লাস সূচি তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, থমকে গেছে পণ্য খালাস ও কনটেইনার পরিবহন জনগণের অধিকার রক্ষায় আপোষহীন থাকার অঙ্গীকার বিএনপির বাংলাদেশ-চীন চুক্তি, চার জাহাজে জোরদার হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা অধিকার রক্ষায় আপোষহীন থাকার অঙ্গীকার বিএনপির, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান ফখরুলের

‘ব্ল্যাক হক’ ড্রোন: তাইওয়ান প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়

তাইওয়ান প্রণালীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন ধারণা থেকে শীতল যুদ্ধের সময়কার হেলিকপ্টারকে ড্রোনে রূপান্তর করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ যুদ্ধে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। একই সময়ে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিও পুরোনো যুদ্ধবিমানকে মানববিহীন ড্রোনে রূপান্তর করছে। গত বছর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে উভয় পক্ষই একই ধরনের ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে।

স্বয়ংক্রিয় ‘ইউ-হক’ হেলিকপ্টারের আবির্ভাব
এস-৭০ইউএএস ইউ-হক নামে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় একটি হেলিকপ্টার প্রথম প্রদর্শিত হয় গত অক্টোবরে এক মার্কিন সামরিক অনুষ্ঠানে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রসদ সরবরাহ ও কৌশলগত মিশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুর এয়ারশোতেও এটি প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি, যা লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

সিকোরস্কির বৈশ্বিক কার্যক্রম বিভাগের পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ক্রিসাফুলি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউ-হকের চাহিদা মূলত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য হুমকির ধারণা থেকেই তৈরি হচ্ছে।

ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের ইতিহাস ও বিস্তার
ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক মূলত ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি একটি মাঝারি ক্ষমতার সামরিক হেলিকপ্টার। পরবর্তীতে সামরিক ও বেসামরিক নানা কাজে ব্যবহারের জন্য এর বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি হয়, যার মধ্যে সমুদ্র অভিযানের জন্য সি-হক সংস্করণও রয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানসহ এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের বহু দেশে এই হেলিকপ্টার রপ্তানি করা হয়েছে। এমনকি ১৯৮০-এর দশকে চীনের সেনাবাহিনীও সীমিত সংখ্যায় এস-৭০ সংগ্রহ করেছিল এবং এখনও কিছু ব্যবহার করছে।

ককপিটবিহীন ড্রোনে রূপান্তর
সিকোরস্কির উন্নত ধারণা বিভাগের পরিচালক র‍্যামসি বেন্টলি জানান, ইউ-হক মূলত ককপিটবিহীন ব্ল্যাক হক। এতে ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বহনক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে হিমার্স রকেট সিস্টেমের একটি পড বা দুটি নৌবাহিনীর আঘাতকারী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা সম্ভব। ককপিট সরিয়ে ফেলায় অতিরিক্ত প্রায় ২৫ শতাংশ কার্গো স্থান তৈরি হয়েছে। ট্যাবলেটভিত্তিক ইন্টারফেসের মাধ্যমে আগে থেকেই মিশন পরিকল্পনা করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি পরিচালনা করা যায়। ফলে মানবচালিত ব্ল্যাক হকের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহ মিশনে এর সক্ষমতা বেশি।

ড্রোন প্রতিযোগিতা ও তাইওয়ান প্রসঙ্গ
আধুনিক যুদ্ধে মানববিহীন উড়োজাহাজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে চীন দ্রুতগতিতে তার ড্রোন বহর সম্প্রসারণ করায়। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে থাকে। অন্যদিকে অধিকাংশ দেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতা স্বীকৃতি না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক পরিস্থিতি পরিবর্তনের বিরোধিতা করে এবং তাইপেইকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহে আইনগতভাবে বাধ্য।

গত সেপ্টেম্বরে চীনের একটি বিমান প্রদর্শনীতে অবসরপ্রাপ্ত সোভিয়েত নকশার জে-৬ যুদ্ধবিমানকে ড্রোনে রূপান্তরের নমুনা দেখানো হয়। তুলনামূলক কম খরচের কারণে এগুলো ব্যাপক সংখ্যায় ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাইওয়ানের পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা গবেষকের মতে, মানববিহীন প্ল্যাটফর্মে পাইলটের জন্য জায়গা না লাগায় ড্রোনের পরিসর বাড়ে এবং দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান পরিচালনা সহজ হয়। বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বাহিনীর জন্য মানববিহীন হেলিকপ্টার তাই বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম খরচের কারণে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা সম্ভব।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনে তাইওয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে মানববিহীন ও প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘপাল্লার অভিযান, সাবমেরিনবিরোধী তৎপরতা, নজরদারি ও আকাশ হামলার মতো কাজ—যা আগে মানবচালিত উড়োজাহাজ করত—সেগুলো ভবিষ্যতে ড্রোন ও মানববিহীন হেলিকপ্টার দিয়ে পরিচালিত হতে পারে। মিত্র ঘাঁটি থেকে মোতায়েন করা এসব প্ল্যাটফর্ম তাইওয়ান প্রণালীতে চীনা সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবচালিত হেলিকপ্টারের তুলনায় ইউ-হকের বড় সুবিধা হলো এটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ দূরত্বে কাজ করতে পারে, কারণ সেখানে মানব পাইলটের নিরাপত্তা বিবেচনা করতে হয় না।

এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দ্রুত ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতায় যেতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরের মতো সামুদ্রিক এলাকায় ড্রোনের ঝাঁক প্রচলিত হেলিকপ্টার চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। নজরদারি ও হামলার প্রথম ধাপেই ড্রোন ব্যবহারের ওপর চীনের জোর মানবচালিত হেলিকপ্টারের টিকে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছুটি চেয়েও পেলেন না, সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পুলিশ সদস্যের হৃদয়বিদারক আক্ষেপ

‘ব্ল্যাক হক’ ড্রোন: তাইওয়ান প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়

০৫:৩৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তাইওয়ান প্রণালীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন ধারণা থেকে শীতল যুদ্ধের সময়কার হেলিকপ্টারকে ড্রোনে রূপান্তর করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ যুদ্ধে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। একই সময়ে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিও পুরোনো যুদ্ধবিমানকে মানববিহীন ড্রোনে রূপান্তর করছে। গত বছর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে উভয় পক্ষই একই ধরনের ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে।

স্বয়ংক্রিয় ‘ইউ-হক’ হেলিকপ্টারের আবির্ভাব
এস-৭০ইউএএস ইউ-হক নামে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় একটি হেলিকপ্টার প্রথম প্রদর্শিত হয় গত অক্টোবরে এক মার্কিন সামরিক অনুষ্ঠানে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রসদ সরবরাহ ও কৌশলগত মিশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুর এয়ারশোতেও এটি প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি, যা লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

সিকোরস্কির বৈশ্বিক কার্যক্রম বিভাগের পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ক্রিসাফুলি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউ-হকের চাহিদা মূলত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য হুমকির ধারণা থেকেই তৈরি হচ্ছে।

ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের ইতিহাস ও বিস্তার
ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক মূলত ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি একটি মাঝারি ক্ষমতার সামরিক হেলিকপ্টার। পরবর্তীতে সামরিক ও বেসামরিক নানা কাজে ব্যবহারের জন্য এর বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি হয়, যার মধ্যে সমুদ্র অভিযানের জন্য সি-হক সংস্করণও রয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানসহ এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের বহু দেশে এই হেলিকপ্টার রপ্তানি করা হয়েছে। এমনকি ১৯৮০-এর দশকে চীনের সেনাবাহিনীও সীমিত সংখ্যায় এস-৭০ সংগ্রহ করেছিল এবং এখনও কিছু ব্যবহার করছে।

ককপিটবিহীন ড্রোনে রূপান্তর
সিকোরস্কির উন্নত ধারণা বিভাগের পরিচালক র‍্যামসি বেন্টলি জানান, ইউ-হক মূলত ককপিটবিহীন ব্ল্যাক হক। এতে ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বহনক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে হিমার্স রকেট সিস্টেমের একটি পড বা দুটি নৌবাহিনীর আঘাতকারী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা সম্ভব। ককপিট সরিয়ে ফেলায় অতিরিক্ত প্রায় ২৫ শতাংশ কার্গো স্থান তৈরি হয়েছে। ট্যাবলেটভিত্তিক ইন্টারফেসের মাধ্যমে আগে থেকেই মিশন পরিকল্পনা করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি পরিচালনা করা যায়। ফলে মানবচালিত ব্ল্যাক হকের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহ মিশনে এর সক্ষমতা বেশি।

ড্রোন প্রতিযোগিতা ও তাইওয়ান প্রসঙ্গ
আধুনিক যুদ্ধে মানববিহীন উড়োজাহাজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে চীন দ্রুতগতিতে তার ড্রোন বহর সম্প্রসারণ করায়। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে থাকে। অন্যদিকে অধিকাংশ দেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতা স্বীকৃতি না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক পরিস্থিতি পরিবর্তনের বিরোধিতা করে এবং তাইপেইকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহে আইনগতভাবে বাধ্য।

গত সেপ্টেম্বরে চীনের একটি বিমান প্রদর্শনীতে অবসরপ্রাপ্ত সোভিয়েত নকশার জে-৬ যুদ্ধবিমানকে ড্রোনে রূপান্তরের নমুনা দেখানো হয়। তুলনামূলক কম খরচের কারণে এগুলো ব্যাপক সংখ্যায় ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাইওয়ানের পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা গবেষকের মতে, মানববিহীন প্ল্যাটফর্মে পাইলটের জন্য জায়গা না লাগায় ড্রোনের পরিসর বাড়ে এবং দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান পরিচালনা সহজ হয়। বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বাহিনীর জন্য মানববিহীন হেলিকপ্টার তাই বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম খরচের কারণে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা সম্ভব।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনে তাইওয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে মানববিহীন ও প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘপাল্লার অভিযান, সাবমেরিনবিরোধী তৎপরতা, নজরদারি ও আকাশ হামলার মতো কাজ—যা আগে মানবচালিত উড়োজাহাজ করত—সেগুলো ভবিষ্যতে ড্রোন ও মানববিহীন হেলিকপ্টার দিয়ে পরিচালিত হতে পারে। মিত্র ঘাঁটি থেকে মোতায়েন করা এসব প্ল্যাটফর্ম তাইওয়ান প্রণালীতে চীনা সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবচালিত হেলিকপ্টারের তুলনায় ইউ-হকের বড় সুবিধা হলো এটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ দূরত্বে কাজ করতে পারে, কারণ সেখানে মানব পাইলটের নিরাপত্তা বিবেচনা করতে হয় না।

এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দ্রুত ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতায় যেতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরের মতো সামুদ্রিক এলাকায় ড্রোনের ঝাঁক প্রচলিত হেলিকপ্টার চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। নজরদারি ও হামলার প্রথম ধাপেই ড্রোন ব্যবহারের ওপর চীনের জোর মানবচালিত হেলিকপ্টারের টিকে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে।