আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালনের কারণে ছুটি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য মেহেদি হাসান। সন্তানের মৃত্যুর মতো গভীর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও ছুটি না মেলায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা
শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেহেদি হাসান লেখেন, ছুটি চেয়েও পাননি, আর সেই সময়েই তার সন্তান মারা গেছে। আরেকটি বাক্যে তিনি তীব্র কষ্টের সঙ্গে উল্লেখ করেন, যেন তিনি না থাকলে নির্বাচনই আটকে যেত—এ কথা ভেবে স্ত্রীর কাছে কী জবাব দেবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন।
স্ত্রীর কাছে গোপন রাখা সন্তানের মৃত্যু সংবাদ
প্রথম পোস্টের প্রায় এক ঘণ্টা পর দেওয়া আরেকটি বার্তায় তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে তখনো তার স্ত্রীকে সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। একই সঙ্গে রাতের ডিউটি পালন এবং সন্তানের মরদেহ তার কাছে পৌঁছানো নিয়ে সহায়তার আবেদনও করেন তিনি।
ব্যক্তিগত সংকট ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
পোস্টগুলোতে নিজের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন এই পুলিশ সদস্য। তিনি জানান, চাকরিটি তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিকল্প কাজের সন্ধান করার কথাও বলেন।
শোকের ভার বহন করতে না পারার আর্তনাদ
পরবর্তী আরেকটি পোস্টে সন্তানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মেহেদি হাসান লেখেন, তার সন্তান আর এই পৃথিবীতে নেই—এই সত্য তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। শোকের ভার যেন তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, মেহেদি হাসান ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে কর্মরত এবং তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















