০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে? টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প

লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা পাশে থাকবে: বাংলাদেশ নিয়ে মোহন ভাগবতের সতর্কবার্তা

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

মুম্বাইয়ে বক্তব্য
মুম্বাইয়ের ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক বক্তৃতামালার দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন মোহন ভাগবত। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ হিন্দু বসবাস করেন। তাদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা যদি দেশে থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিশ্বের সব হিন্দু তাদের পাশে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে অস্থিরতা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়। বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন হিন্দু নিহত হয়েছেন, যা রাস্তার বিক্ষোভ থেকে সংগঠিত হামলায় রূপ নেয় বলে বক্তব্যে বলা হয়।

‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গে মন্তব্য
ভাগবত জনগণকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে—বিশেষ করে অনুপ্রবেশ শনাক্ত ও বহিষ্কার করার ক্ষেত্রে। জনগণকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি দাবি করেন, জনগণ নিজেরাও সন্দেহভাজন বিদেশিদের চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে এবং তাদের কর্মসংস্থান না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে পারে।

সংঘের অন্তর্ভুক্তি ও নেতৃত্ব
সংঘের কাঠামো নিয়ে বক্তব্যে মোহন ভাগবত বলেন, কাজের ভিত্তিতেই সংগঠনের সর্বোচ্চ পদ নির্ধারিত হয়। জাতপাতের ভিত্তিতে নয়, যে কেউ—তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির সদস্যসহ—যোগ্যতা ও কাজের মাধ্যমে সংঘপ্রধান হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সংঘে বর্তমানে সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সংরক্ষণ নীতির পক্ষে অবস্থান
জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন এটি চালু থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং রাজনীতিতে জাতপাতভিত্তিক বিভাজনের প্রবণতা থেকে সতর্ক থাকার কথা বলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা

লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা পাশে থাকবে: বাংলাদেশ নিয়ে মোহন ভাগবতের সতর্কবার্তা

০৮:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

মুম্বাইয়ে বক্তব্য
মুম্বাইয়ের ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক বক্তৃতামালার দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন মোহন ভাগবত। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ হিন্দু বসবাস করেন। তাদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা যদি দেশে থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিশ্বের সব হিন্দু তাদের পাশে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে অস্থিরতা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়। বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন হিন্দু নিহত হয়েছেন, যা রাস্তার বিক্ষোভ থেকে সংগঠিত হামলায় রূপ নেয় বলে বক্তব্যে বলা হয়।

‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গে মন্তব্য
ভাগবত জনগণকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে—বিশেষ করে অনুপ্রবেশ শনাক্ত ও বহিষ্কার করার ক্ষেত্রে। জনগণকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি দাবি করেন, জনগণ নিজেরাও সন্দেহভাজন বিদেশিদের চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে এবং তাদের কর্মসংস্থান না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে পারে।

সংঘের অন্তর্ভুক্তি ও নেতৃত্ব
সংঘের কাঠামো নিয়ে বক্তব্যে মোহন ভাগবত বলেন, কাজের ভিত্তিতেই সংগঠনের সর্বোচ্চ পদ নির্ধারিত হয়। জাতপাতের ভিত্তিতে নয়, যে কেউ—তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির সদস্যসহ—যোগ্যতা ও কাজের মাধ্যমে সংঘপ্রধান হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সংঘে বর্তমানে সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সংরক্ষণ নীতির পক্ষে অবস্থান
জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন এটি চালু থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং রাজনীতিতে জাতপাতভিত্তিক বিভাজনের প্রবণতা থেকে সতর্ক থাকার কথা বলেন।