০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা পাশে থাকবে: বাংলাদেশ নিয়ে মোহন ভাগবতের সতর্কবার্তা

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

মুম্বাইয়ে বক্তব্য
মুম্বাইয়ের ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক বক্তৃতামালার দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন মোহন ভাগবত। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ হিন্দু বসবাস করেন। তাদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা যদি দেশে থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিশ্বের সব হিন্দু তাদের পাশে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে অস্থিরতা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়। বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন হিন্দু নিহত হয়েছেন, যা রাস্তার বিক্ষোভ থেকে সংগঠিত হামলায় রূপ নেয় বলে বক্তব্যে বলা হয়।

‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গে মন্তব্য
ভাগবত জনগণকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে—বিশেষ করে অনুপ্রবেশ শনাক্ত ও বহিষ্কার করার ক্ষেত্রে। জনগণকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি দাবি করেন, জনগণ নিজেরাও সন্দেহভাজন বিদেশিদের চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে এবং তাদের কর্মসংস্থান না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে পারে।

সংঘের অন্তর্ভুক্তি ও নেতৃত্ব
সংঘের কাঠামো নিয়ে বক্তব্যে মোহন ভাগবত বলেন, কাজের ভিত্তিতেই সংগঠনের সর্বোচ্চ পদ নির্ধারিত হয়। জাতপাতের ভিত্তিতে নয়, যে কেউ—তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির সদস্যসহ—যোগ্যতা ও কাজের মাধ্যমে সংঘপ্রধান হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সংঘে বর্তমানে সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সংরক্ষণ নীতির পক্ষে অবস্থান
জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন এটি চালু থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং রাজনীতিতে জাতপাতভিত্তিক বিভাজনের প্রবণতা থেকে সতর্ক থাকার কথা বলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা পাশে থাকবে: বাংলাদেশ নিয়ে মোহন ভাগবতের সতর্কবার্তা

০৮:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

মুম্বাইয়ে বক্তব্য
মুম্বাইয়ের ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক বক্তৃতামালার দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন মোহন ভাগবত। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ হিন্দু বসবাস করেন। তাদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা যদি দেশে থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিশ্বের সব হিন্দু তাদের পাশে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে অস্থিরতা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়। বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন হিন্দু নিহত হয়েছেন, যা রাস্তার বিক্ষোভ থেকে সংগঠিত হামলায় রূপ নেয় বলে বক্তব্যে বলা হয়।

‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গে মন্তব্য
ভাগবত জনগণকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে—বিশেষ করে অনুপ্রবেশ শনাক্ত ও বহিষ্কার করার ক্ষেত্রে। জনগণকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি দাবি করেন, জনগণ নিজেরাও সন্দেহভাজন বিদেশিদের চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে এবং তাদের কর্মসংস্থান না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে পারে।

সংঘের অন্তর্ভুক্তি ও নেতৃত্ব
সংঘের কাঠামো নিয়ে বক্তব্যে মোহন ভাগবত বলেন, কাজের ভিত্তিতেই সংগঠনের সর্বোচ্চ পদ নির্ধারিত হয়। জাতপাতের ভিত্তিতে নয়, যে কেউ—তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির সদস্যসহ—যোগ্যতা ও কাজের মাধ্যমে সংঘপ্রধান হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সংঘে বর্তমানে সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সংরক্ষণ নীতির পক্ষে অবস্থান
জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন এটি চালু থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং রাজনীতিতে জাতপাতভিত্তিক বিভাজনের প্রবণতা থেকে সতর্ক থাকার কথা বলেন।