মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। শনিবার উদ্ধার তৎপরতার সময় আরও দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ৫ ফেব্রুয়ারির বিস্ফোরণের পর থেকেই বহু সংস্থার সমন্বয়ে টানা উদ্ধার অভিযান চলছে, তবে এখনও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে খনির ভেতরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় একশ ফুট গভীর উল্লম্ব খাদ থেকে ছড়িয়ে পড়া জটিল সুড়ঙ্গ পথের ভেতরে কিছু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত নয়জন শ্রমিক বর্তমানে শিলংয়ে চিকিৎসাধীন। নিহতদের অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং তারা আসাম, মেঘালয় ও নেপালের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ও অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, খনি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই খনি মালিককে আদালত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। অবৈধভাবে পরিচালিত একাধিক খনি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিস্ফোরক সামগ্রীসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই মালিকের একজনের বয়স ৩৬ এবং অন্যজনের ৪২ বছর বলে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবৈধ খনি
২০১৪ সালের এপ্রিলে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল র্যার্টহোল খনন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালতও বহাল রাখে। তবু পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় এলাকায় অবৈধ কয়লা খনন অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনাকে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত ও রাজনৈতিক দায় নির্ধারণের দাবি তুলেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণের দাবি
রাজ্য কংগ্রেসসহ একাধিক সংগঠন উচ্চপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে র্যার্টহোল খনন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















