০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
এআই দৌড়ে ডেটা চুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা, বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের মাঝে খাবারের লড়াই, বৈরুতে রান্নাঘরে মানুষের পাশে মানুষ রেড সি ঝুঁকিতে জাহাজ ঘুরছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্বে নতুন উত্তাপ, ইরান ইস্যুতে জোটে ফাটল গভীর ইরানকে সতর্ক বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্প-শি বৈঠকের নতুন তারিখ ঘোষণা, নিশ্চিত করল না বেইজিং পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ

বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ

হারুকি মুরাকামির কল্পবিজ্ঞানধর্মী উপন্যাস ‘দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হার্ড-বয়েল্ড ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এর একেবারে নতুন মঞ্চরূপ সম্প্রতি টোকিও মেট্রোপলিটন থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়েছে। বইটির প্রকাশের চল্লিশ বছর পূর্তিকে ঘিরেই এই প্রযোজনা মঞ্চে আসে। আন্তর্জাতিক দর্শকের কথা মাথায় রেখে নির্মিত এই নাটক একই সঙ্গে পরিচয়, চেতনা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দার্শনিক প্রশ্ন তোলে—যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের সময়ে নতুন তাৎপর্য পেয়েছে।

সমান্তরাল দুই জগতের গল্প

নাটকের কাহিনি শিরোনামে উল্লেখিত দুই সমান্তরাল জগতকে ঘিরে এগোয়। ‘এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ অংশে দেয়ালঘেরা এক কল্পনাময় শহরে ড্রিমরিডার নামে এক চরিত্র বিশ্বের গোপন রহস্য অনুসন্ধান করে। অন্যদিকে ‘হার্ড-বয়েল্ড ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এ আধুনিক টোকিওতে ক্যালকুটেক নামে এক ব্যক্তি নিজের এবং বিশ্বের অবচেতন মন অনুসন্ধানে নিমগ্ন থাকে। ধীরে ধীরে দুই জগতের রহস্য একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্টি করে গভীর দার্শনিক বয়ান।

আন্তর্জাতিক যাত্রার প্রস্তুতি

ফিলিপ দেকুফলে পরিচালিত এই প্রযোজনা ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন নাট্যসংস্থা এবং জাপানি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হোরিপ্রোর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। টোকিওতে প্রদর্শন শেষে নাটকটি মিয়াগি, আইচি, হিয়োগো ও ফুকুওকা প্রদেশে দেশীয় সফর শুরু করে মার্চের শুরু পর্যন্ত চলবে। এরপর এপ্রিল থেকে সিঙ্গাপুর, সাংহাই, বেইজিং, সুজৌ, প্যারিস ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে আন্তর্জাতিক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাপানি গল্পের বৈশ্বিক আগ্রহ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানি গল্প ও সমকালীন থিয়েটারের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তোহো ও হোরিপ্রো প্রায় তিন দশক ধরে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে মৌলিক প্রযোজনা তৈরি করে আসছে এবং ধীরে ধীরে বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

বিশেষ করে অ্যানিমে ও মাঙ্গাভিত্তিক মঞ্চনাটক আন্তর্জাতিক সাফল্য পেয়েছে। ‘ডেথ নোট’ ও ‘ইউর লাই ইন এপ্রিল’-এর মতো প্রযোজনা এশিয়া পেরিয়ে যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিল পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই ধারায় ‘অ্যাটাক অন টাইটান’, ‘সেইলর মুন’ ও ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’ও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শিত হয়েছে। এমনকি লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে জাপানি শিল্পীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে।

মুরাকামির কাজের আগের সাফল্য

মুরাকামির রচনার মঞ্চরূপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নয়। ‘কাফকা অন দ্য শোর’ ২০১৫ সালে লন্ডন, সিঙ্গাপুর ও সিউলে প্রশংসা পেয়েছিল। পরে ‘আফটার দ্য কোয়েক’ এবং ‘দ্য উইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিকল’ও মঞ্চে রূপান্তরিত হয়। তবে নতুন প্রযোজনার বিশেষত্ব হলো—এটি শুরু থেকেই বৈশ্বিক সফরের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পিত।

ভাষার সীমা পেরোতে দৃশ্যমান উপস্থাপনা

আন্তর্জাতিক দর্শকের উপযোগী করতে নাটকের দৈর্ঘ্য তিন ঘণ্টার কম রাখা হয়েছে, কারণ বিদেশি মঞ্চে সাধারণত দীর্ঘ প্রযোজনা কম গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে মুরাকামির ভাষার সৌন্দর্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দৃশ্যমান অভিব্যক্তি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাখ্যামূলক নৃত্য, জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক এবং ইউনিকর্নের মতো কল্পপ্রাণীর অভিনয়—সব মিলিয়ে নাটকটিকে ভিজ্যুয়ালভাবে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জ

জাপানি থিয়েটারের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা বাড়লেও প্রযোজকদের সতর্কতা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন ক্রমেই প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে—এশীয় গল্পে এশীয় অভিনেতাদের অংশগ্রহণ থাকা উচিত। একই সঙ্গে বাস্তব সীমাবদ্ধতাও আছে, কারণ জাপানি দল দীর্ঘ সময় বিদেশে নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যেতে পারে না।

এই কারণে লাইসেন্সভিত্তিক স্থানীয় প্রযোজনা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে জাপানি নাটক ও মিউজিক্যাল বিশ্বজুড়ে পরিচিত মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে। সেই লক্ষ্যেই লন্ডনে স্থানীয় এশীয় শিল্পীদের নিয়ে ‘ডেথ নোট: দ্য মিউজিক্যাল’ মঞ্চস্থ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক যাত্রার সূচনা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দৌড়ে ডেটা চুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা, বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ

বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ

১০:২৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হারুকি মুরাকামির কল্পবিজ্ঞানধর্মী উপন্যাস ‘দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হার্ড-বয়েল্ড ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এর একেবারে নতুন মঞ্চরূপ সম্প্রতি টোকিও মেট্রোপলিটন থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়েছে। বইটির প্রকাশের চল্লিশ বছর পূর্তিকে ঘিরেই এই প্রযোজনা মঞ্চে আসে। আন্তর্জাতিক দর্শকের কথা মাথায় রেখে নির্মিত এই নাটক একই সঙ্গে পরিচয়, চেতনা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দার্শনিক প্রশ্ন তোলে—যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের সময়ে নতুন তাৎপর্য পেয়েছে।

সমান্তরাল দুই জগতের গল্প

নাটকের কাহিনি শিরোনামে উল্লেখিত দুই সমান্তরাল জগতকে ঘিরে এগোয়। ‘এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ অংশে দেয়ালঘেরা এক কল্পনাময় শহরে ড্রিমরিডার নামে এক চরিত্র বিশ্বের গোপন রহস্য অনুসন্ধান করে। অন্যদিকে ‘হার্ড-বয়েল্ড ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এ আধুনিক টোকিওতে ক্যালকুটেক নামে এক ব্যক্তি নিজের এবং বিশ্বের অবচেতন মন অনুসন্ধানে নিমগ্ন থাকে। ধীরে ধীরে দুই জগতের রহস্য একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্টি করে গভীর দার্শনিক বয়ান।

আন্তর্জাতিক যাত্রার প্রস্তুতি

ফিলিপ দেকুফলে পরিচালিত এই প্রযোজনা ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন নাট্যসংস্থা এবং জাপানি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হোরিপ্রোর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। টোকিওতে প্রদর্শন শেষে নাটকটি মিয়াগি, আইচি, হিয়োগো ও ফুকুওকা প্রদেশে দেশীয় সফর শুরু করে মার্চের শুরু পর্যন্ত চলবে। এরপর এপ্রিল থেকে সিঙ্গাপুর, সাংহাই, বেইজিং, সুজৌ, প্যারিস ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে আন্তর্জাতিক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাপানি গল্পের বৈশ্বিক আগ্রহ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানি গল্প ও সমকালীন থিয়েটারের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তোহো ও হোরিপ্রো প্রায় তিন দশক ধরে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে মৌলিক প্রযোজনা তৈরি করে আসছে এবং ধীরে ধীরে বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

বিশেষ করে অ্যানিমে ও মাঙ্গাভিত্তিক মঞ্চনাটক আন্তর্জাতিক সাফল্য পেয়েছে। ‘ডেথ নোট’ ও ‘ইউর লাই ইন এপ্রিল’-এর মতো প্রযোজনা এশিয়া পেরিয়ে যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিল পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই ধারায় ‘অ্যাটাক অন টাইটান’, ‘সেইলর মুন’ ও ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’ও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শিত হয়েছে। এমনকি লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে জাপানি শিল্পীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে।

মুরাকামির কাজের আগের সাফল্য

মুরাকামির রচনার মঞ্চরূপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নয়। ‘কাফকা অন দ্য শোর’ ২০১৫ সালে লন্ডন, সিঙ্গাপুর ও সিউলে প্রশংসা পেয়েছিল। পরে ‘আফটার দ্য কোয়েক’ এবং ‘দ্য উইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিকল’ও মঞ্চে রূপান্তরিত হয়। তবে নতুন প্রযোজনার বিশেষত্ব হলো—এটি শুরু থেকেই বৈশ্বিক সফরের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পিত।

ভাষার সীমা পেরোতে দৃশ্যমান উপস্থাপনা

আন্তর্জাতিক দর্শকের উপযোগী করতে নাটকের দৈর্ঘ্য তিন ঘণ্টার কম রাখা হয়েছে, কারণ বিদেশি মঞ্চে সাধারণত দীর্ঘ প্রযোজনা কম গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে মুরাকামির ভাষার সৌন্দর্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দৃশ্যমান অভিব্যক্তি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাখ্যামূলক নৃত্য, জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক এবং ইউনিকর্নের মতো কল্পপ্রাণীর অভিনয়—সব মিলিয়ে নাটকটিকে ভিজ্যুয়ালভাবে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জ

জাপানি থিয়েটারের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা বাড়লেও প্রযোজকদের সতর্কতা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন ক্রমেই প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে—এশীয় গল্পে এশীয় অভিনেতাদের অংশগ্রহণ থাকা উচিত। একই সঙ্গে বাস্তব সীমাবদ্ধতাও আছে, কারণ জাপানি দল দীর্ঘ সময় বিদেশে নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যেতে পারে না।

এই কারণে লাইসেন্সভিত্তিক স্থানীয় প্রযোজনা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে জাপানি নাটক ও মিউজিক্যাল বিশ্বজুড়ে পরিচিত মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে। সেই লক্ষ্যেই লন্ডনে স্থানীয় এশীয় শিল্পীদের নিয়ে ‘ডেথ নোট: দ্য মিউজিক্যাল’ মঞ্চস্থ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক যাত্রার সূচনা হতে পারে।