০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম

ভারতের একাধিক রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নতুন নিয়ম এতিমখানা ও দাতব্য আশ্রয়কেন্দ্রে বড় হওয়া বহু তরুণকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিজের পরিচয়ের নথি থাকলেও বাবা–মায়ের পরিচয় প্রমাণ করতে না পারায় অনেকেই ভোটাধিকার হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

পরিচয় আছে, বংশপরিচয় নেই
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বড় হওয়া এক তরুণের মতো বহু মানুষ ভোটার পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও সমস্যায় পড়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নিজের নথির পাশাপাশি এক বা দুই অভিভাবকের তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। কিন্তু যারা শৈশবেই পরিত্যক্ত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে বড় হয়েছে, তাদের পক্ষে এই তথ্য দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে তারা “অমিল” শ্রেণিতে পড়ে শুনানির নোটিস পাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রই যখন তাদের লালন–পালনের দায় নিয়েছে, তখন প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার দায়ও রাষ্ট্রের হওয়া উচিত।

নিয়মের ফাঁদে নতুন ভোটাররাও
নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও একই জটিলতা তৈরি হয়েছে। আলাদা ঘোষণাপত্রে অভিভাবকের নাম পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখানোর শর্ত যুক্ত হওয়ায় এতিম তরুণদের জন্য ভোটার হওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ প্রচলিত নিয়মে এতিমদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের স্থানে আশ্রয় কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করার সুযোগ ছিল।

দেশজুড়ে হাজারো শিশু একই বাস্তবতায়
নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে হাজার হাজার শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শিশু বাস করে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক কিশোর–কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে এসব প্রতিষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দায় অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আইনি দায়িত্ব ও বাস্তব চিত্র
আইন অনুযায়ী শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে বহু তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একা লড়াই করতে বাধ্য হন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কঠোর শর্ত তাদের নাগরিক অধিকার কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, জন্মসূত্রে দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ কেবল বংশপরিচয়ের অভাবে ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে, তবে তা রাষ্ট্রের নীতিগত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম

১০:০০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের একাধিক রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নতুন নিয়ম এতিমখানা ও দাতব্য আশ্রয়কেন্দ্রে বড় হওয়া বহু তরুণকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিজের পরিচয়ের নথি থাকলেও বাবা–মায়ের পরিচয় প্রমাণ করতে না পারায় অনেকেই ভোটাধিকার হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

পরিচয় আছে, বংশপরিচয় নেই
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বড় হওয়া এক তরুণের মতো বহু মানুষ ভোটার পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও সমস্যায় পড়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নিজের নথির পাশাপাশি এক বা দুই অভিভাবকের তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। কিন্তু যারা শৈশবেই পরিত্যক্ত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে বড় হয়েছে, তাদের পক্ষে এই তথ্য দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে তারা “অমিল” শ্রেণিতে পড়ে শুনানির নোটিস পাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রই যখন তাদের লালন–পালনের দায় নিয়েছে, তখন প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার দায়ও রাষ্ট্রের হওয়া উচিত।

নিয়মের ফাঁদে নতুন ভোটাররাও
নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও একই জটিলতা তৈরি হয়েছে। আলাদা ঘোষণাপত্রে অভিভাবকের নাম পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখানোর শর্ত যুক্ত হওয়ায় এতিম তরুণদের জন্য ভোটার হওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ প্রচলিত নিয়মে এতিমদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের স্থানে আশ্রয় কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করার সুযোগ ছিল।

দেশজুড়ে হাজারো শিশু একই বাস্তবতায়
নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে হাজার হাজার শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শিশু বাস করে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক কিশোর–কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে এসব প্রতিষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দায় অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আইনি দায়িত্ব ও বাস্তব চিত্র
আইন অনুযায়ী শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে বহু তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একা লড়াই করতে বাধ্য হন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কঠোর শর্ত তাদের নাগরিক অধিকার কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, জন্মসূত্রে দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ কেবল বংশপরিচয়ের অভাবে ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে, তবে তা রাষ্ট্রের নীতিগত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।