১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম পাখির ফ্লু আতঙ্কে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ুর সংক্রমণ ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা মেঘালয়ের অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত বেড়ে ২৭, এখনও নিখোঁজ শ্রমিক মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম পটুয়াখালীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত শেয়ারবাজারে সপ্তাহের প্রথম দিনে পতন, কমেছে লেনদেন লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা পাশে থাকবে: বাংলাদেশ নিয়ে মোহন ভাগবতের সতর্কবার্তা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক পাঁচ পেশাজীবী সংগঠনের ডনের প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশে পুনরুত্থিত জামায়াত

মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম

তেলেঙ্গানার অরণ্যঘেরা ছোট গ্রাম মেদারাম আবারও রূপ নিয়েছে এক বিশাল আধ্যাত্মিক সমাবেশে। সাম্মাক্কা–সারালাম্মা মহা জাতরা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কোটি কোটি ভক্ত এখানে এসে জড়ো হয়েছেন বনদেবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বহু প্রাচীন কোয়া আদিবাসী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এই দ্বিবার্ষিক উৎসবকে এশিয়ার বৃহত্তম আদিবাসী ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে ধরা হয়।

অরণ্যের বুকে আধ্যাত্মিক মিলনমেলা
এতুরনাগারাম অভয়ারণ্যের গভীরে অবস্থিত মেদারাম সাধারণ সময়ে শান্ত একটি গ্রাম হলেও উৎসবের দিনগুলোতে তা পরিণত হয় বিরাট তীর্থক্ষেত্রে। তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ভক্তরা এসে সমবেত হন দেবী সাম্মাক্কা ও সারালাম্মার আশীর্বাদ পেতে। অস্থায়ী শিবির, নদীতীরে পুণ্যস্নান এবং নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের ব্যবস্থায় পুরো এলাকা এক অনন্য ধর্মীয় আবহে ভরে ওঠে।

অনুষ্ঠানের সূচনা ও আচার পরম্পরা
চার দিনের মহা যাত্রার সূচনা হয় শুভ পূর্ণিমা তিথিতে সারালাম্মার আগমনের মাধ্যমে। কোয়া পুরোহিতরা কান্নেপল্লি গ্রাম থেকে দেবীকে শোভাযাত্রায় নিয়ে এসে পবিত্র জাম্পান্না প্রবাহ অতিক্রম করে মেদারামের পবিত্র বেদি স্থাপন করেন। এর আগে গোবিন্দরাজু ও পাগিদিদ্দারাজুর প্রতীকী প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। উৎসবের চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক মুহূর্ত আসে চিলকালাগুট্টা থেকে সাম্মাক্কার আগমনে, যা সিঁদুর ভর্তি পবিত্র পাত্রে প্রতীকী ভাবে বহন করা হয়।

The Hindu In Frames: Medaram and the rhythms of devotion - The Hindu

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও নিরাপত্তা
সাম্মাক্কার আগমনের আগে জেলা পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকের তালে তালে নৃত্য, তন্ময় ভক্তি এবং আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে পুরো তীর্থক্ষেত্র।

লোককথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতি
স্থানীয় কাহিনী অনুসারে, প্রাচীন শাসক মেদা রাজু অরণ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় থাকা এক কন্যা শিশুকে খুঁজে পান এবং তাকে সাম্মাক্কা নামে লালন করেন। পরবর্তীতে সাম্মাক্কা, তাঁর পরিবার এবং সারালাম্মা কাকাতীয় শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মবলিদান দেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণেই এই মহা যাত্রার আয়োজন।

উৎসবের সমাপ্তি ও প্রত্যাবর্তন
দর্শন ও পূজা সম্পন্ন করে ভক্তরা ধীরে ধীরে ঘরে ফেরেন। কিন্তু অরণ্যের বুকে রেখে যান গভীর ভক্তি, ঐতিহ্য ও সমবেত বিশ্বাসের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি, যা পরবর্তী যাত্রা পর্যন্ত মানুষের মনে জাগ্রত থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ

মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম

০৯:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তেলেঙ্গানার অরণ্যঘেরা ছোট গ্রাম মেদারাম আবারও রূপ নিয়েছে এক বিশাল আধ্যাত্মিক সমাবেশে। সাম্মাক্কা–সারালাম্মা মহা জাতরা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কোটি কোটি ভক্ত এখানে এসে জড়ো হয়েছেন বনদেবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বহু প্রাচীন কোয়া আদিবাসী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এই দ্বিবার্ষিক উৎসবকে এশিয়ার বৃহত্তম আদিবাসী ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে ধরা হয়।

অরণ্যের বুকে আধ্যাত্মিক মিলনমেলা
এতুরনাগারাম অভয়ারণ্যের গভীরে অবস্থিত মেদারাম সাধারণ সময়ে শান্ত একটি গ্রাম হলেও উৎসবের দিনগুলোতে তা পরিণত হয় বিরাট তীর্থক্ষেত্রে। তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ভক্তরা এসে সমবেত হন দেবী সাম্মাক্কা ও সারালাম্মার আশীর্বাদ পেতে। অস্থায়ী শিবির, নদীতীরে পুণ্যস্নান এবং নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের ব্যবস্থায় পুরো এলাকা এক অনন্য ধর্মীয় আবহে ভরে ওঠে।

অনুষ্ঠানের সূচনা ও আচার পরম্পরা
চার দিনের মহা যাত্রার সূচনা হয় শুভ পূর্ণিমা তিথিতে সারালাম্মার আগমনের মাধ্যমে। কোয়া পুরোহিতরা কান্নেপল্লি গ্রাম থেকে দেবীকে শোভাযাত্রায় নিয়ে এসে পবিত্র জাম্পান্না প্রবাহ অতিক্রম করে মেদারামের পবিত্র বেদি স্থাপন করেন। এর আগে গোবিন্দরাজু ও পাগিদিদ্দারাজুর প্রতীকী প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। উৎসবের চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক মুহূর্ত আসে চিলকালাগুট্টা থেকে সাম্মাক্কার আগমনে, যা সিঁদুর ভর্তি পবিত্র পাত্রে প্রতীকী ভাবে বহন করা হয়।

The Hindu In Frames: Medaram and the rhythms of devotion - The Hindu

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও নিরাপত্তা
সাম্মাক্কার আগমনের আগে জেলা পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকের তালে তালে নৃত্য, তন্ময় ভক্তি এবং আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে পুরো তীর্থক্ষেত্র।

লোককথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতি
স্থানীয় কাহিনী অনুসারে, প্রাচীন শাসক মেদা রাজু অরণ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় থাকা এক কন্যা শিশুকে খুঁজে পান এবং তাকে সাম্মাক্কা নামে লালন করেন। পরবর্তীতে সাম্মাক্কা, তাঁর পরিবার এবং সারালাম্মা কাকাতীয় শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মবলিদান দেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণেই এই মহা যাত্রার আয়োজন।

উৎসবের সমাপ্তি ও প্রত্যাবর্তন
দর্শন ও পূজা সম্পন্ন করে ভক্তরা ধীরে ধীরে ঘরে ফেরেন। কিন্তু অরণ্যের বুকে রেখে যান গভীর ভক্তি, ঐতিহ্য ও সমবেত বিশ্বাসের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি, যা পরবর্তী যাত্রা পর্যন্ত মানুষের মনে জাগ্রত থাকে।