০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম

তেলেঙ্গানার অরণ্যঘেরা ছোট গ্রাম মেদারাম আবারও রূপ নিয়েছে এক বিশাল আধ্যাত্মিক সমাবেশে। সাম্মাক্কা–সারালাম্মা মহা জাতরা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কোটি কোটি ভক্ত এখানে এসে জড়ো হয়েছেন বনদেবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বহু প্রাচীন কোয়া আদিবাসী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এই দ্বিবার্ষিক উৎসবকে এশিয়ার বৃহত্তম আদিবাসী ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে ধরা হয়।

অরণ্যের বুকে আধ্যাত্মিক মিলনমেলা
এতুরনাগারাম অভয়ারণ্যের গভীরে অবস্থিত মেদারাম সাধারণ সময়ে শান্ত একটি গ্রাম হলেও উৎসবের দিনগুলোতে তা পরিণত হয় বিরাট তীর্থক্ষেত্রে। তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ভক্তরা এসে সমবেত হন দেবী সাম্মাক্কা ও সারালাম্মার আশীর্বাদ পেতে। অস্থায়ী শিবির, নদীতীরে পুণ্যস্নান এবং নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের ব্যবস্থায় পুরো এলাকা এক অনন্য ধর্মীয় আবহে ভরে ওঠে।

অনুষ্ঠানের সূচনা ও আচার পরম্পরা
চার দিনের মহা যাত্রার সূচনা হয় শুভ পূর্ণিমা তিথিতে সারালাম্মার আগমনের মাধ্যমে। কোয়া পুরোহিতরা কান্নেপল্লি গ্রাম থেকে দেবীকে শোভাযাত্রায় নিয়ে এসে পবিত্র জাম্পান্না প্রবাহ অতিক্রম করে মেদারামের পবিত্র বেদি স্থাপন করেন। এর আগে গোবিন্দরাজু ও পাগিদিদ্দারাজুর প্রতীকী প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। উৎসবের চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক মুহূর্ত আসে চিলকালাগুট্টা থেকে সাম্মাক্কার আগমনে, যা সিঁদুর ভর্তি পবিত্র পাত্রে প্রতীকী ভাবে বহন করা হয়।

The Hindu In Frames: Medaram and the rhythms of devotion - The Hindu

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও নিরাপত্তা
সাম্মাক্কার আগমনের আগে জেলা পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকের তালে তালে নৃত্য, তন্ময় ভক্তি এবং আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে পুরো তীর্থক্ষেত্র।

লোককথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতি
স্থানীয় কাহিনী অনুসারে, প্রাচীন শাসক মেদা রাজু অরণ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় থাকা এক কন্যা শিশুকে খুঁজে পান এবং তাকে সাম্মাক্কা নামে লালন করেন। পরবর্তীতে সাম্মাক্কা, তাঁর পরিবার এবং সারালাম্মা কাকাতীয় শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মবলিদান দেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণেই এই মহা যাত্রার আয়োজন।

উৎসবের সমাপ্তি ও প্রত্যাবর্তন
দর্শন ও পূজা সম্পন্ন করে ভক্তরা ধীরে ধীরে ঘরে ফেরেন। কিন্তু অরণ্যের বুকে রেখে যান গভীর ভক্তি, ঐতিহ্য ও সমবেত বিশ্বাসের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি, যা পরবর্তী যাত্রা পর্যন্ত মানুষের মনে জাগ্রত থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম

০৯:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তেলেঙ্গানার অরণ্যঘেরা ছোট গ্রাম মেদারাম আবারও রূপ নিয়েছে এক বিশাল আধ্যাত্মিক সমাবেশে। সাম্মাক্কা–সারালাম্মা মহা জাতরা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কোটি কোটি ভক্ত এখানে এসে জড়ো হয়েছেন বনদেবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বহু প্রাচীন কোয়া আদিবাসী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এই দ্বিবার্ষিক উৎসবকে এশিয়ার বৃহত্তম আদিবাসী ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে ধরা হয়।

অরণ্যের বুকে আধ্যাত্মিক মিলনমেলা
এতুরনাগারাম অভয়ারণ্যের গভীরে অবস্থিত মেদারাম সাধারণ সময়ে শান্ত একটি গ্রাম হলেও উৎসবের দিনগুলোতে তা পরিণত হয় বিরাট তীর্থক্ষেত্রে। তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ভক্তরা এসে সমবেত হন দেবী সাম্মাক্কা ও সারালাম্মার আশীর্বাদ পেতে। অস্থায়ী শিবির, নদীতীরে পুণ্যস্নান এবং নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের ব্যবস্থায় পুরো এলাকা এক অনন্য ধর্মীয় আবহে ভরে ওঠে।

অনুষ্ঠানের সূচনা ও আচার পরম্পরা
চার দিনের মহা যাত্রার সূচনা হয় শুভ পূর্ণিমা তিথিতে সারালাম্মার আগমনের মাধ্যমে। কোয়া পুরোহিতরা কান্নেপল্লি গ্রাম থেকে দেবীকে শোভাযাত্রায় নিয়ে এসে পবিত্র জাম্পান্না প্রবাহ অতিক্রম করে মেদারামের পবিত্র বেদি স্থাপন করেন। এর আগে গোবিন্দরাজু ও পাগিদিদ্দারাজুর প্রতীকী প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। উৎসবের চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক মুহূর্ত আসে চিলকালাগুট্টা থেকে সাম্মাক্কার আগমনে, যা সিঁদুর ভর্তি পবিত্র পাত্রে প্রতীকী ভাবে বহন করা হয়।

The Hindu In Frames: Medaram and the rhythms of devotion - The Hindu

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও নিরাপত্তা
সাম্মাক্কার আগমনের আগে জেলা পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকের তালে তালে নৃত্য, তন্ময় ভক্তি এবং আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে পুরো তীর্থক্ষেত্র।

লোককথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতি
স্থানীয় কাহিনী অনুসারে, প্রাচীন শাসক মেদা রাজু অরণ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় থাকা এক কন্যা শিশুকে খুঁজে পান এবং তাকে সাম্মাক্কা নামে লালন করেন। পরবর্তীতে সাম্মাক্কা, তাঁর পরিবার এবং সারালাম্মা কাকাতীয় শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মবলিদান দেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণেই এই মহা যাত্রার আয়োজন।

উৎসবের সমাপ্তি ও প্রত্যাবর্তন
দর্শন ও পূজা সম্পন্ন করে ভক্তরা ধীরে ধীরে ঘরে ফেরেন। কিন্তু অরণ্যের বুকে রেখে যান গভীর ভক্তি, ঐতিহ্য ও সমবেত বিশ্বাসের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি, যা পরবর্তী যাত্রা পর্যন্ত মানুষের মনে জাগ্রত থাকে।