চীনা নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে একটি ছবি প্রকাশের পর। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের দ্রুততম আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ওয়াইজে–১৫ এখন কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বিমানবাহী রণতরীতে ব্যবহৃত জে–১৫টি যুদ্ধবিমান দুটি ওয়াইজে–১৫ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করছে। ছবিটি অত্যন্ত কার্যকর যুদ্ধ প্রস্তুতির বিন্যাসে তোলা বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ছবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবু এটি সত্য হলে বোঝা যাবে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌ ও বিমানবাহিনীর কৌশলগত যুদ্ধবিমান—যেমন জে–১৫ ও জে–১৬—এর জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
গত বছরের বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র জনসমক্ষে দেখা গেলেও তখন এর উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াইজে–১৫ চীনা নৌবাহিনীর জাহাজবিধ্বংসী যুদ্ধক্ষমতায় বড় ধরনের অগ্রগতি এনেছে। কিছু ক্ষেত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনও প্রধানত সাবসনিক গতির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।
ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং অনুপ্রবেশের গতি ম্যাক ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে। ফলে এটি রাশিয়ার খ–৩১এডি ও ভারতের ব্রহ্মোস–এ ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও দ্রুত, যেগুলোর গতি ম্যাক ৪-এর নিচে। এ কারণে ওয়াইজে–১৫-কে বিশ্বের দ্রুততম আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্ভুলতা বাড়াতে এতে উন্নত স্যাটেলাইট, রাডার ও ইনফ্রারেড চিত্রনির্ভর নির্দেশনা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শেষ মুহূর্তে কৌশলগত গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকতে পারে, যা শত্রুর নিকটবর্তী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সহায়ক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















