দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আবারও থমকে গেছে। রবিবার সকাল থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পুনরায় শুরু করায় পণ্য ওঠানামা ও সরবরাহ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুই দিনের বিরতির পর নতুন করে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ধর্মঘটের প্রভাব বন্দর এলাকা ছাড়িয়ে বহির্নোঙর এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে জাহাজে পণ্য তোলা-নামানো এবং মালামাল পরিবহন কার্যক্রমেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে বলে বন্দর সূত্র ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে বিরোধ
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলন পরিষদ চার দফা দাবিতে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির এক ভিডিও বার্তায় বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করে শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, চেয়ারম্যান এখনো দায়িত্বে বহাল আছেন।
সকাল থেকেই বন্ধ পণ্য হ্যান্ডলিং
রবিবার সকাল আটটা থেকে বন্দরের একাধিক জেটিতে সব ধরনের কনটেইনার ও পণ্য হ্যান্ডলিং বন্ধ হয়ে যায় এবং ডেলিভারি কার্যক্রম স্থগিত থাকে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদও কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের ভিন্ন বক্তব্য
রবিবার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান দাবি করেন, চলমান ধর্মঘটের মধ্যেও বন্দরের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্রে কার্যত অচলাবস্থাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















