দক্ষিণ লেবাননের ইসরায়েল সীমান্তঘেঁষা ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদগুলো ঘুরে দেখে দ্রুত পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম। দীর্ঘ সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির পরও জনশূন্য হয়ে থাকা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে তিনি “একটি প্রকৃত বিপর্যয়ের শিকার” বলে উল্লেখ করেন এবং সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও পানির অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
ধ্বংসস্তূপে মানুষের প্রত্যাশা
সীমান্তের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত তায়র হারফা ও ইয়ারিনে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলগুলোর পুনর্জাগরণ রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। নিকটবর্তী ধায়রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে স্বাগত জানান এবং জাতীয় পতাকা উড়িয়ে পুনর্গঠনের আশার কথা জানান।
বিনতে জবেইলে স্থানীয় প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, জেলায় বত্রিশ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃসংযোগ, পানির অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু হবে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক শর্ত
যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তাসহ বিভিন্ন উৎসের তহবিল এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। আগেই বিশ্বব্যাপী আর্থিক সহায়তার একটি বড় অঙ্ক অনুমোদিত হয়েছে, যদিও সামগ্রিক পুনর্গঠনে প্রয়োজন আরও অনেক বেশি অর্থ।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ নোয়েল বারোর বৈরুত সফরে তিনি স্পষ্ট করেন, টেকসই পুনর্গঠনের জন্য ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক আর্থিক চুক্তি এবং ক্ষতি বণ্টনসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন জরুরি। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনেও সহায়তা দেবে ফ্রান্স।
যুদ্ধবিরতি, নিরস্ত্রীকরণ ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা
নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, সীমান্ত থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফরাসি কূটনীতিক। একই সঙ্গে অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় পুনর্মিলনের আহ্বান জানান তিনি।
লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে এক সংকটময় সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক আস্থা পুনরুদ্ধার, অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং জনগণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















