১১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি: চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫ কোটি ডলার, বাড়ছে সব দলের পুরস্কার দাপুটে জয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ, শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ভাগ্য জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর সেনা হেফাজতে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রিকশা ছিনতাইয়ের সন্দেহে রাজবাড়ীতে চালককে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার যশোরে তরুণ সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার, মানসিক চাপে মর্মান্তিক পরিণতি মেক্সিকোতে আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ গুরগ্রামে আটক ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে মালদায় পাঠাল পুলিশ, শুরু হচ্ছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নির্বাসিত মিয়ানমারের রাঁধুনিদের হাতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে দেশটির খাবার ফেনীতে মহাসড়কে বাসচাপায় নারী নিহত, উদ্ধার করেও বাঁচানো গেল না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘনঘটা-২: বর্ষার ছন্দে জমে উঠল নৃত্য উৎসব

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায়

গত দেড় বছরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবস্থানকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকত্বে নামিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, এই সময়ে দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং তারা স্থায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছেন।

চট্টগ্রামে অগ্নিসংযোগ ও আতঙ্কের প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রামের রাউজান ও মীরসরাইয়ে সম্প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তত উনিশটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে তিনি গভীর উদ্বেগ জনক বলে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতের অন্ধকারে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে এসব বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টির ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ভয় তৈরি করাই এমন ঘটনার উদ্দেশ্য হতে পারে বলে মত দেন তিনি।

নিরাপত্তা, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ভোটে অংশ নিতে গেলে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ঘুষ ও তদবির সংস্কৃতি দমন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা তাদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র ও আইন প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে গেলে অসহায় মানুষের আর ভরসা থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও অন্য ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পরিবেশ গত আঠারো মাসে সংকুচিত হয়েছে বলে ও তিনি উল্লেখ করেন।

মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ ও দাবি
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এবং নিরাপত্তার জন্য নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষ উদ্যোগ, সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা এবং মানবাধিকার কমিশনের সক্রিয় নজরদারির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনমুখী সব রাজনৈতিক দলকে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ও নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি: চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫ কোটি ডলার, বাড়ছে সব দলের পুরস্কার

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায়

০৭:২১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত দেড় বছরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবস্থানকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকত্বে নামিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, এই সময়ে দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং তারা স্থায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছেন।

চট্টগ্রামে অগ্নিসংযোগ ও আতঙ্কের প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রামের রাউজান ও মীরসরাইয়ে সম্প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তত উনিশটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে তিনি গভীর উদ্বেগ জনক বলে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতের অন্ধকারে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে এসব বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টির ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ভয় তৈরি করাই এমন ঘটনার উদ্দেশ্য হতে পারে বলে মত দেন তিনি।

নিরাপত্তা, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ভোটে অংশ নিতে গেলে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ঘুষ ও তদবির সংস্কৃতি দমন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা তাদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র ও আইন প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে গেলে অসহায় মানুষের আর ভরসা থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও অন্য ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পরিবেশ গত আঠারো মাসে সংকুচিত হয়েছে বলে ও তিনি উল্লেখ করেন।

মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ ও দাবি
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এবং নিরাপত্তার জন্য নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষ উদ্যোগ, সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা এবং মানবাধিকার কমিশনের সক্রিয় নজরদারির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনমুখী সব রাজনৈতিক দলকে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ও নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধও জানান তিনি।