নরওয়ের প্রভাবশালী কূটনীতিক মোনা ইউল যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ ঘিরে পদত্যাগ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘গুরুতর বিচারবোধের ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে তার ওপর প্রয়োজনীয় আস্থা পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় নরওয়ে ছাড়িয়ে ইউরোপের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা বিস্তৃত নথিতে এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পর সপ্তাহের শুরুতেই ইউলকে জর্ডান ও ইরাকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালেই শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ায় তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন এবং পুরো তদন্তে সহযোগিতা করবেন।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
ছেষট্টি বছর বয়সী ইউল এর আগে ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নব্বইয়ের দশকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন অসলো চুক্তি বাস্তবায়নের পেছনে কাজ করা কূটনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। তার স্বামী তেরিয়ে রোড-লারসেনও একই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন এবং পরে নিউইয়র্কভিত্তিক একটি শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন।
স্বামীর প্রতিষ্ঠান ও অনুদান পর্যালোচনায়
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোড-লারসেনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটকে দেওয়া আগের অনুদানগুলোও পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোড-লারসেন অতীতে এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নতুন পর্যালোচনায় আপত্তি নেই বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।

ইউরোপজুড়ে প্রতিক্রিয়া ও চাপ
এ ঘটনায় নরওয়ের বাইরেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের শীর্ষ সহকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন, কারণ সংশ্লিষ্ট মনোনয়নের সঙ্গেও এপস্টিনের পুরোনো যোগাযোগের বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্য ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতও অতীত যোগাযোগের জন্য নতুন করে ক্ষমা চেয়েছেন।
আস্থা ও জবাবদিহির প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে শান্তি প্রক্রিয়ার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কাজ করা ব্যক্তিদের অতীত সম্পর্ক নিয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জোরালো হচ্ছে। নরওয়ে সরকারও ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে মূল্যায়ন আরও শক্ত করা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















