কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসবাস ও চলাচল বন্ধে ব্যাপক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বাসাভাড়া দিয়ে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তিনজন বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে আদায় করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা।
অভিযানের বিস্তৃতি ও অংশগ্রহণ
রোববার সকালে উখিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের আবাসিক এলাকা, ভাড়া দেওয়া ঘর, কলোনি, দোকানপাটের আশপাশ ও সন্দেহভাজন স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

ক্যাম্পের বাইরে দীর্ঘদিনের অবস্থান
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক রোহিঙ্গাদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মাসিক ভাড়ায় কক্ষ নিয়ে বসবাসের ঘটনাও পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বৈধ পরিচয়পত্র, ক্যাম্প ত্যাগের অনুমতি কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই শেষে তাদের নিজ নিজ শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নজরদারি আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
অভিযান চলাকালে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তিনজন বাড়ির মালিককে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সময় আরও কয়েকজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে মাদক পাচার, চুরি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি হচ্ছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আহমদ জানান, আটক রোহিঙ্গাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















