০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে? টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প

লাক্ষাদ্বীপের আগাতি দ্বীপে উচ্ছেদের আশঙ্কা, প্রতিরক্ষা ও পর্যটন প্রকল্প ঘিরে উদ্বেগে বাসিন্দারা

ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপের অন্যতম সুন্দর জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ আগাতিকে ঘিরে উচ্ছেদের আশঙ্কা গভীর ছায়া ফেলেছে। প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও পর্যটন উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ায় প্রায় ১৬০ টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। জীবিকা হারানোর শঙ্কা, পরিবেশগত ভঙ্গুরতা এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, পাশাপাশি প্রতিবাদ ও জোরদার হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণের পরিধি

প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বীপটির উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল মিলিয়ে মোট ৬৭ দশমিক ১১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সরু প্রবাল দ্বীপটিতে প্রায় আট হাজার মানুষের বসবাস, ফলে এই উদ্যোগ সরাসরি জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Trouble in paradise: Indian islands face 'brazen' new laws and Covid crisis  | Global development | The Guardian

প্রতিরক্ষা ও পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা

উত্তরাঞ্চলের ৩৭ দশমিক ৭৪ একর জমি ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফিল্ড বেস সহায়তা ইউনিট স্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের ২৯ দশমিক ৩৭ একর জমি পর্যটন কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট জন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শহর কেন্দ্র উন্নয়ন, পারিবারিক কুটির নির্মাণ এবং পর্যটন সুবিধা তৈরির জন্য ও ছোট ছোট জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাসিন্দাদের জীবিকা ও অস্তিত্বের সংকট

স্থানীয়দের কাছে এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং অস্তিত্বের সংকটের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো আশঙ্কা করছে তারা ঘরবাড়ি, জমিজমা, মসজিদ, জেলেদের নৌকা রাখার ঘর এবং ছোট পর্যটন ব্যবসা হারাতে পারে। দ্বীপে বর্তমানে প্রায় একশো পর্যটন কুটির চালু রয়েছে, যা সীমিত জীবিকার সুযোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। অধিগ্রহণের ফলে এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

In Lakshadweep's Agatti, island fishers face eviction for Gujarat-based  firm's tent city

আইনি প্রক্রিয়া ও নতুন বিতর্ক

সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন জরিপের নির্দেশ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাম সভা ও জমির মালিকদের সম্মতি বাধ্যতামূলক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আদিবাসী বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ তাদের ভূমির অধিকার দীর্ঘদিন ধরে সামষ্টিক সম্মতির সঙ্গে যুক্ত।

স্মারকলিপি ও অভিযোগ

আগাতির ছয়জন বাসিন্দা সম্প্রতি আদিবাসী বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তফসিলি জনজাতি বিষয়ক জাতীয় কমিশন এবং প্রশাসকের উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সম্মতির শর্ত বাতিলের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, গত পাঁচ বছরে আদিবাসী জমি অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা অন্যায্য, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং বিদ্যমান সুরক্ষা বিধান ও সমন্বিত দ্বীপ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার পরিপন্থী।

If You Are Going To Continue, Kill Us First.' A Lakshadweep Islander  Explains Why He Is Fighting For His Home | Article-14

জনপ্রিয় সংবাদ

মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা

লাক্ষাদ্বীপের আগাতি দ্বীপে উচ্ছেদের আশঙ্কা, প্রতিরক্ষা ও পর্যটন প্রকল্প ঘিরে উদ্বেগে বাসিন্দারা

০৩:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপের অন্যতম সুন্দর জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ আগাতিকে ঘিরে উচ্ছেদের আশঙ্কা গভীর ছায়া ফেলেছে। প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও পর্যটন উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ায় প্রায় ১৬০ টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। জীবিকা হারানোর শঙ্কা, পরিবেশগত ভঙ্গুরতা এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, পাশাপাশি প্রতিবাদ ও জোরদার হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণের পরিধি

প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বীপটির উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল মিলিয়ে মোট ৬৭ দশমিক ১১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সরু প্রবাল দ্বীপটিতে প্রায় আট হাজার মানুষের বসবাস, ফলে এই উদ্যোগ সরাসরি জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Trouble in paradise: Indian islands face 'brazen' new laws and Covid crisis  | Global development | The Guardian

প্রতিরক্ষা ও পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা

উত্তরাঞ্চলের ৩৭ দশমিক ৭৪ একর জমি ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফিল্ড বেস সহায়তা ইউনিট স্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের ২৯ দশমিক ৩৭ একর জমি পর্যটন কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট জন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শহর কেন্দ্র উন্নয়ন, পারিবারিক কুটির নির্মাণ এবং পর্যটন সুবিধা তৈরির জন্য ও ছোট ছোট জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাসিন্দাদের জীবিকা ও অস্তিত্বের সংকট

স্থানীয়দের কাছে এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং অস্তিত্বের সংকটের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো আশঙ্কা করছে তারা ঘরবাড়ি, জমিজমা, মসজিদ, জেলেদের নৌকা রাখার ঘর এবং ছোট পর্যটন ব্যবসা হারাতে পারে। দ্বীপে বর্তমানে প্রায় একশো পর্যটন কুটির চালু রয়েছে, যা সীমিত জীবিকার সুযোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। অধিগ্রহণের ফলে এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

In Lakshadweep's Agatti, island fishers face eviction for Gujarat-based  firm's tent city

আইনি প্রক্রিয়া ও নতুন বিতর্ক

সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন জরিপের নির্দেশ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাম সভা ও জমির মালিকদের সম্মতি বাধ্যতামূলক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আদিবাসী বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ তাদের ভূমির অধিকার দীর্ঘদিন ধরে সামষ্টিক সম্মতির সঙ্গে যুক্ত।

স্মারকলিপি ও অভিযোগ

আগাতির ছয়জন বাসিন্দা সম্প্রতি আদিবাসী বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তফসিলি জনজাতি বিষয়ক জাতীয় কমিশন এবং প্রশাসকের উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সম্মতির শর্ত বাতিলের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, গত পাঁচ বছরে আদিবাসী জমি অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা অন্যায্য, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং বিদ্যমান সুরক্ষা বিধান ও সমন্বিত দ্বীপ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার পরিপন্থী।

If You Are Going To Continue, Kill Us First.' A Lakshadweep Islander  Explains Why He Is Fighting For His Home | Article-14