যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার প্রভাবে দীর্ঘদিনের চাপ কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ভারতীয় রুপি ও শেয়ারবাজার। এই সমঝোতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রি থামাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হলেও টেকসই উত্থানের জন্য আয় বৃদ্ধির গতি ও মৌলভিত্তি শক্তিশালী হওয়া জরুরি বলে মত বিশ্লেষকদের।
বাণিজ্য সমঝোতার প্রভাব ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সমঝোতার পর শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা যায় এবং সাত বছরের মধ্যে রুপির সেরা পুনরুদ্ধার ঘটে। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে গত বছরের শুরু থেকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় ভারতীয় বাজারের দুর্বল পারফরম্যান্স এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বাস্তবতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

আয় বৃদ্ধি ও মৌলভিত্তির প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কমলেও তাৎক্ষণিকভাবে কর্পোরেট আয় বেড়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হলেও নিকট মেয়াদে আয়ের বড় উল্লম্ফন প্রত্যাশিত নয়। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যায়ন, তুলনামূলক কম ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানের অভাব ভারতীয় শেয়ারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ ও রুপির অবস্থান
গত বছরজুড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি অর্থ বাজার থেকে বেরিয়ে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত পুনঃপ্রবাহের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নীতিগত সহায়তা ও প্রবৃদ্ধির পুনরুদ্ধার ঘটলে বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা দুর্বল রুপির ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে, যদিও মুদ্রা সুরক্ষা কার্যক্রম ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বাড়ানোর প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি উত্থানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি
গত এক বছরে ভারতীয় সূচকের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের বাজার অনেক বেশি এগিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে স্পষ্ট নেতৃত্বের অভাব বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং প্রযুক্তি খাতে ও চাপ দেখা যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
কিছু বিনিয়োগকারী এখনও ভারতীয় বাজারকে সম্ভাবনাময় মনে করছেন এবং ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। তবু বড় আকারের বিনিয়োগ ফেরাতে কর্পোরেট মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিক গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরে ভারতীয় শেয়ার থেকে ডলার ভিত্তিক রিটার্ন মাঝারি পর্যায়ে থাকতে পারে, যা প্রতিযোগী কিছু বাজারের তুলনায় কম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















