মৃত্যুর পরও কিছু মানুষ থেকে যান অদৃশ্য শক্তি হয়ে। তাঁদের গল্প অন্যদের জীবন বাঁচানোর প্রেরণা হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্যে ক্যানসারে মারা যাওয়া কয়েকজন নারীর স্মৃতি আজও হাজারো মানুষের চিকিৎসা, সচেতনতা ও আগাম শনাক্তকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।
জেসির মৃত্যুর পর বদলে গেল নিয়ম
মাত্র সাতাশ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যান জেস ব্র্যাডি। তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে মা আন্দ্রেয়া একটি দাবির সূচনা করেন, যার লক্ষ্য ছিল চিকিৎসকদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা তৈরি করা। যদি কোনো রোগীর সমস্যা তিনবার দেখানোর পরও সমাধান না হয় বা উপসর্গ বাড়তে থাকে, তবে বয়স যাই হোক, দ্রুত উচ্চতর চিকিৎসা ব্যবস্থায় পাঠাতে হবে।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পায় এবং এখন ইংল্যান্ডজুড়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে তা চালু হচ্ছে। জেসের নাম ও ছবিসহ প্রচারণা মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে—অবহেলা যেন আর কারও প্রাণ না নেয়।

উপসর্গ ছিল, গুরুত্ব পায়নি
জেস ২০২০ সালের গ্রীষ্মে পেটব্যথা, বমি, দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গে ভুগছিলেন। তিনি বহুবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও বয়স কম হওয়ায় এবং অন্য অসুখ ভেবে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
অবশেষে ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা করালে ধরা পড়ে চতুর্থ ধাপের ক্যানসার। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই অভিজ্ঞতা এখন আগাম ক্যানসার শনাক্তকরণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।
তরুণীদের মধ্যে ক্যানসার বাড়ছে
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পঞ্চাশ বছরের নিচে নারীদের মধ্যে ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন বৃদ্ধি নেই। তাই চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান—সম্ভাবনা কম মনে হলেও গুরুতর রোগের ঝুঁকি মাথায় রেখে পরীক্ষা করা জরুরি।
মায়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে মেয়ে
আরেক তরুণী অ্যামি লেসলি ছোটবেলাতেই মা ও নানিকে ক্যানসারে হারান। তাঁদের ইচ্ছা ছিল, অন্য পরিবার যেন একই কষ্টের মুখে না পড়ে। সেই স্বপ্ন থেকেই গড়ে ওঠে একটি সহায়তা ও সচেতনতা উদ্যোগ, যা স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ জানানো, মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং উন্নত চিকিৎসা গবেষণায় অর্থায়ন করছে।
পরবর্তীতে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণায় নয়টি লক্ষণ নিয়ে স্টিকার তৈরি করা হয়, যা শতাধিক নারীর আগাম শনাক্তকরণে সহায়তা করেছে। এমনকি একজন পরিচিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বও এই প্রচারণার মাধ্যমে নিজের স্তনে ছোট গাঁট শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে সক্ষম হন।
সহায়তা, গবেষণা ও আশার আলো
দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই উদ্যোগ গবেষণায় বিপুল অর্থ দিয়েছে এবং বিশেষায়িত সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেখানে রোগীরা সরাসরি ও অনলাইনে মানসিক, ব্যবহারিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সহায়তা পান।
অ্যামির মতো অনেক তরুণী মনে করেন, বয়স কম বলে পরীক্ষা না করা বড় ভুল। নিয়মিত নিজে পরীক্ষা করা এবং উপসর্গ দেখলেই চিকিৎসা নেওয়াই জীবন বাঁচাতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















