০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

ভুল পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের মাসকাটে তাঁর ওমানি সমকক্ষ সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন।

২০১৮ সালের মে মাসে ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন, যদিও চুক্তিটি কার্যকরভাবে চলছিল এবং এটি ওবামা প্রশাসনের প্রধান বৈদেশিক নীতিগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত ছিল। মূলত এই কারণেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প চুক্তিটি বাতিল করে প্রথম ধাপে দেড় হাজার শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

শুক্রবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সম্ভাবনা স্থগিত করেছে, যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন ভুল পদক্ষেপের ঝুঁকি কমিয়েছে এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। জুন মাসে ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই ছিল দুই পক্ষের প্রথম আলোচনা; ওই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল আলোচনা ব্যাহত করা এবং ইরানকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত ছিল: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আলোচনা ছিল গভীর ও নিবিড় এবং খুব ভালো পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এটিকে একটি ভালো সূচনা বলে উল্লেখ করেন।

তবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে আরব সাগর ও উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-সামরিক শক্তি জোরদার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি এবং ইরানের তেল রপ্তানি বহরসহ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে। ট্রাম্প বলেন, যদি ইরানিরা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর।

২০১৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য স্বল্প সক্ষমতার সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার এবং ৩০০ কিলোগ্রাম মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রত্যাহারের পর ইরান এক বছর চুক্তি মেনে চলে, যাতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকির কারণে তারা তা করেনি। ফলে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা শুরু করে, মজুত বাড়ায় এবং উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি করে চুক্তি লঙ্ঘন করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ আপিল আদালতের - BBC News  বাংলা

সাত বছর আগে ট্রাম্পের প্রত্যাহারের কারণে ইরান তার পরমাণু গবেষণা এগিয়ে নিয়েছে, যন্ত্রপাতি আধুনিক করেছে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় মজুত গড়ে তুলেছে। ট্রাম্প যদি চুক্তিতে অটল থাকতেন, তবে এসব ঘটত না এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কও প্রায় নিশ্চিতভাবে উন্নত হতো।

অতিরিক্ত সহিংসতা এড়াতে আঞ্চলিক নেতারা ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার প্রথম পর্ব শুরু করতে ও ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যেতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের ওপর চাপ দিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আলোচনার বিষয় কেবল পরমাণু কর্মসূচি; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইয়েমেনের হুথি, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র নাকি আপাতত কেবল পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা মেনে নিয়েছে।

গত বছর আলোচনায় ওয়াশিংটন শূন্য পরমাণু সক্ষমতার দাবি তোলে, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনও সেই অবস্থানে আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এক পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, ইরান সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার বজায় রেখে বহু বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে রাজি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা মেনে নেবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান মারাত্মকভাবে দুর্বল হওয়ায় চাপের মুখে রয়েছে। জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বড় ক্ষতির মুখে পড়ে এবং নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে অবস্থিত তিনটি প্রধান পরমাণু স্থাপনা বোমাবর্ষণের শিকার হয়।

দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক বিক্ষোভ রাজনৈতিক রূপ নিলে ইরান সরকার চাপে পড়ে। হাজারো মানুষ নিহত ও আহত হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হয়। আলোচনা পুনরায় শুরু হলে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানকে তিন বছরের জন্য শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সম্মত হতে বলবে বলে জানা গেছে। এরপর সমৃদ্ধকরণ ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে সীমিত রাখা হবে, যা অন্যান্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঙ্গে মিশিয়ে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব। ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কিলোগ্রামসহ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হবে।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে ইরান

ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা আঞ্চলিক অরাষ্ট্রীয় অংশীদারদের কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করবে না এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে প্রথম উদ্যোগ নেবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত করার ওপর জোর দিচ্ছে, ইরান সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বজায় রাখতে অনড়। ইসরায়েলের মতে, এই অস্ত্রগুলো তাদের দেশ ও অঞ্চলের অন্যদের জন্য বড় হুমকি। সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন স্বীকার করেছে যে আপাতত শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অনুগত রয়েছে এবং দেশে ঐক্যবদ্ধ কোনো বিকল্প বিরোধী সংগঠন নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র শাহ পতনের পর থেকে ওয়াশিংটন তেহরানের প্রতি ভুল নীতি অনুসরণ করে আসছে। তাদের মতে, ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাখায় সরকার ক্ষমতার দখল আরও শক্ত করেছে এবং বৈরী অবস্থান নিয়েছে। জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা ও একঘরে করার বদলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের উচিত ছিল অন্তত আংশিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও বাণিজ্য বাড়ানো। এতে মধ্যপন্থী মধ্যবিত্ত শ্রেণি শক্তিশালী হতো, নীতিনির্ধারণে তাদের ভূমিকা বাড়ত এবং ভেতর থেকেই গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারত।

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

ভুল পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি

০৩:৪৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের মাসকাটে তাঁর ওমানি সমকক্ষ সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন।

২০১৮ সালের মে মাসে ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন, যদিও চুক্তিটি কার্যকরভাবে চলছিল এবং এটি ওবামা প্রশাসনের প্রধান বৈদেশিক নীতিগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত ছিল। মূলত এই কারণেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প চুক্তিটি বাতিল করে প্রথম ধাপে দেড় হাজার শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

শুক্রবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সম্ভাবনা স্থগিত করেছে, যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন ভুল পদক্ষেপের ঝুঁকি কমিয়েছে এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। জুন মাসে ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই ছিল দুই পক্ষের প্রথম আলোচনা; ওই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল আলোচনা ব্যাহত করা এবং ইরানকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত ছিল: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আলোচনা ছিল গভীর ও নিবিড় এবং খুব ভালো পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এটিকে একটি ভালো সূচনা বলে উল্লেখ করেন।

তবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে আরব সাগর ও উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-সামরিক শক্তি জোরদার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি এবং ইরানের তেল রপ্তানি বহরসহ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে। ট্রাম্প বলেন, যদি ইরানিরা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর।

২০১৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য স্বল্প সক্ষমতার সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার এবং ৩০০ কিলোগ্রাম মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রত্যাহারের পর ইরান এক বছর চুক্তি মেনে চলে, যাতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকির কারণে তারা তা করেনি। ফলে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা শুরু করে, মজুত বাড়ায় এবং উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি করে চুক্তি লঙ্ঘন করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ আপিল আদালতের - BBC News  বাংলা

সাত বছর আগে ট্রাম্পের প্রত্যাহারের কারণে ইরান তার পরমাণু গবেষণা এগিয়ে নিয়েছে, যন্ত্রপাতি আধুনিক করেছে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় মজুত গড়ে তুলেছে। ট্রাম্প যদি চুক্তিতে অটল থাকতেন, তবে এসব ঘটত না এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কও প্রায় নিশ্চিতভাবে উন্নত হতো।

অতিরিক্ত সহিংসতা এড়াতে আঞ্চলিক নেতারা ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার প্রথম পর্ব শুরু করতে ও ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যেতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের ওপর চাপ দিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আলোচনার বিষয় কেবল পরমাণু কর্মসূচি; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইয়েমেনের হুথি, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র নাকি আপাতত কেবল পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা মেনে নিয়েছে।

গত বছর আলোচনায় ওয়াশিংটন শূন্য পরমাণু সক্ষমতার দাবি তোলে, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনও সেই অবস্থানে আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এক পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, ইরান সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার বজায় রেখে বহু বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে রাজি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা মেনে নেবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান মারাত্মকভাবে দুর্বল হওয়ায় চাপের মুখে রয়েছে। জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বড় ক্ষতির মুখে পড়ে এবং নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে অবস্থিত তিনটি প্রধান পরমাণু স্থাপনা বোমাবর্ষণের শিকার হয়।

দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক বিক্ষোভ রাজনৈতিক রূপ নিলে ইরান সরকার চাপে পড়ে। হাজারো মানুষ নিহত ও আহত হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হয়। আলোচনা পুনরায় শুরু হলে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানকে তিন বছরের জন্য শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সম্মত হতে বলবে বলে জানা গেছে। এরপর সমৃদ্ধকরণ ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে সীমিত রাখা হবে, যা অন্যান্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঙ্গে মিশিয়ে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব। ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কিলোগ্রামসহ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হবে।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে ইরান

ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা আঞ্চলিক অরাষ্ট্রীয় অংশীদারদের কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করবে না এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে প্রথম উদ্যোগ নেবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত করার ওপর জোর দিচ্ছে, ইরান সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বজায় রাখতে অনড়। ইসরায়েলের মতে, এই অস্ত্রগুলো তাদের দেশ ও অঞ্চলের অন্যদের জন্য বড় হুমকি। সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন স্বীকার করেছে যে আপাতত শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অনুগত রয়েছে এবং দেশে ঐক্যবদ্ধ কোনো বিকল্প বিরোধী সংগঠন নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র শাহ পতনের পর থেকে ওয়াশিংটন তেহরানের প্রতি ভুল নীতি অনুসরণ করে আসছে। তাদের মতে, ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাখায় সরকার ক্ষমতার দখল আরও শক্ত করেছে এবং বৈরী অবস্থান নিয়েছে। জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা ও একঘরে করার বদলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের উচিত ছিল অন্তত আংশিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও বাণিজ্য বাড়ানো। এতে মধ্যপন্থী মধ্যবিত্ত শ্রেণি শক্তিশালী হতো, নীতিনির্ধারণে তাদের ভূমিকা বাড়ত এবং ভেতর থেকেই গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারত।