লাহোরের আকাশজুড়ে রঙিন ঘুড়ির লড়াই আর ছাদের ওপর থেকে ভেসে আসা বিজয়ের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী। সফল উদযাপনের পর পাঞ্জাব সরকার বসন্ত উৎসবের সময় বাড়িয়ে সোমবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে উৎসব শেষ হওয়ার কথা ছিল রোববার মধ্যরাতে।
দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এলো বসন্তের আনন্দ
প্রায় উনিশ বছরের নিষেধাজ্ঞার পর আবারও লাহোরের আকাশে উড়েছে উজ্জ্বল রঙের ঘুড়ি। বসন্ত আগমনের প্রতীক এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব ঘিরে তিন দিন ধরে ছাদ, পার্ক ও রাস্তায় পরিবার ও বন্ধুদের মিলনমেলা বসে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দুই হাজার সাত সালে কাচ গুঁড়া মেশানো সুতা ও উদযাপনকালে গুলিবর্ষণের ঘটনায় উৎসবটি বন্ধ করা হয়েছিল।

নিয়ম মেনে উদযাপনে সন্তুষ্ট সরকার
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ জানিয়েছেন, লাহোরবাসী শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে বসন্ত উদ্যাপন করায় এই সময় বাড়ানো হয়েছে। তিনি সবাইকে নিরাপদে উৎসব চালিয়ে যেতে, বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকতে এবং ছাদ সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, আনন্দঘন অথচ নিরাপদ বসন্তের ধারণা এবার বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
সরকারের দাবি, অনুমোদিত মাপ ছাড়া নিষিদ্ধ সুতা ব্যবহারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ধাতব তার ব্যবহার না হওয়ায় শহরের ট্রান্সফরমার ও নিরাপদ রয়েছে।

ছাদ জুড়ে উল্লাস, মানুষের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
পুরনো শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সারারাত ছাদে ভিড় করে মানুষ ঘুড়ি ওড়ায়, ঢোল বাজায় এবং প্রতিপক্ষের সুতা কেটে দিলে বিজয়ের স্লোগান তোলে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্রথম ঘুড়ি আকাশে তুলতে পেরে অনেকেই আবেগাপ্লুত হন। অভিজ্ঞ ঘুড়ি ওড়ানো ব্যক্তিদের মতে, রাতের অন্ধকারে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে রোমাঞ্চকর হলেও ভোরের দিকে হাওয়া কমে গেলে কিছুটা বিরতি নেয় উৎসব, পরে আবার গতি পায়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য
সরকার ধাতব বা রাসায়নিক প্রলেপ দেওয়া প্রাণঘাতী সুতা নিষিদ্ধ করেছে। প্রতিটি ঘুড়ি ও সুতায় শনাক্তযোগ্য চিহ্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেলে সুরক্ষা দণ্ড লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার উৎপাদক নিবন্ধন নিয়ে বাজারে ঘুড়ি ও সুতা বিক্রি করেছেন, আর বিপুল চাহিদায় অনেক জায়গায় মজুদ ফুরিয়ে গেছে।
এই উৎসব ঘিরে শহরের হোটেলগুলো পূর্ণ হয়ে ওঠে, খাবারের বাজারেও বাড়ে চাহিদা। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, কয়েক দিনের মধ্যেই ঘুড়ি বেচাকেনার পরিমাণ কয়েক শ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















