দুই দিনের বন্ধ থাকার পর গাজা ও মিশরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত সীমিত পরিসরে আবার চালু হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায় বিশ হাজার মানুষ বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। সীমান্ত পুনরায় চালুর এই ঘটনা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসার জন্য সীমিত যাতায়াত
রোববার অল্পসংখ্যক ফিলিস্তিনি রাফাহ সীমান্ত পেরিয়ে মিসরে প্রবেশ করেন। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, সতেরো জন চিকিৎসা প্রার্থী ও তাদের সাতাশ জন সহযাত্রী যাত্রা শুরু করেছেন এবং একই সংখ্যক মানুষের গাজায় ফেরার কথা ও রয়েছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সীমান্ত খোলার প্রথম চার দিনে মাত্র ছত্রিশ জন রোগী ও বাষট্টি জন সহযাত্রী গাজা ছাড়তে পেরেছেন বলে জাতিসংঘের তথ্য বলছে।

অপেক্ষায় হাজারো রোগী
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে রেড ক্রিসেন্টের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রার্থীরা রোববার জড়ো হন সীমান্তে যাওয়ার আগে। যুদ্ধাহত আমজাদ আবু জেদিয়ান প্রথম দিনেই যাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র পাঁচজনকে যেতে দেওয়ায় তিনি অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানান তার মা রাজা আবু জেদিয়ান। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফোন পেয়ে রোববার যাত্রার প্রস্তুতি নেন তিনি। রোগীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান ও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
ফেরার পথে অভিযোগ ও অস্বীকার
রাফাহ দিয়ে গাজায় ফিরে আসা কয়েকজন ফিলিস্তিনি দীর্ঘ সময়ের বিলম্ব ও তল্লাশির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তল্লাশি ছিল কঠোর ও হয়রানিমূলক। যদিও ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বর্তমানে সীমান্তটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি মিশন ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা পরিচালনা করছেন, আর ইসরায়েলের তল্লাশি কেন্দ্র কিছুটা দূরে অবস্থিত।

রাফাহর কৌশলগত গুরুত্ব
যুদ্ধের আগে রাফাহ ছিল গাজার একমাত্র সীমান্তপথ যা সরাসরি ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তবে গত বছরের মে মাসে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি অংশটি দখলে নেয় এবং তখন থেকেই চলাচল কঠোরভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন পঞ্চাশজন গাজায় ফিরতে পারবেন এবং পঞ্চাশজন রোগী দুইজন সহযাত্রীসহ বাইরে যেতে পারবেন, যদিও বাস্তবে সংখ্যা আরও কম।
অস্ত্র ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা
হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা খালেদ মাশাল জানিয়েছেন, গাজার পুনর্গঠন ও সুরক্ষার বিষয়টি যুক্ত থাকলে সংগঠনটি তাদের অস্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি, নিরস্ত্রীকরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সীমান্তে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর মতো প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ইসরায়েল হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মাশাল।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















